আমার জীবনটা অতিষ্ট করে তুলেছে। রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারছি না। দুই এক দিন পরপর মুঠোফোনে কল দিচ্ছে। সন্ত্রাসী শাহাদাতের ছোট ভাই মহসিনের পরিচয় দিয়ে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। চাঁদার টাকা না দিলে খুন করবে বলে জানায়। কল আসা বেশির ভাগই ভারতীয় ডিজিটের নাম্বার। আমি কো-থেকে টাকা দেবো? এতো টাকা চাঁদা দেয়ার স্বামর্থ্য নেই।
অসহায় কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে 'মায়ের দোআ' নামক বেকারির মালিক মো. সোহেল রানা।
সোমবার ভোর ৬টার দিকে অর্ডারের মাল সাপ্লাই করার সময় দোকানের ব্যবস্থাপক শিপনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শিপনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে কর্মচারী শিপনকে দেখতে গিয়ে কথা বেকারির মালিক সোহেল রানার সাথে। তিনি টাইম নিউজবিডিকে বলেন,বেকারির ব্যবসাটা কেবল দাঁড় করিয়েছি। ভালই চলছে ব্যবসা। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ থেকে অনবরত: হুমকির কারণে এখন ব্যবসা করাই দায়।
তিনি বলেন,শুনেছি মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত। শাহাদাতের ছোট ভাই মহসিনও বড় কিলার। গত মাসের ২৬ তারিখে আমার মুঠোফোনে কল দিয়ে প্রথম চাঁদা চায়। পুরুষকন্ঠে একজন বলেন,আমি শাহাদাতের ছোট ভাই মহসিনের লোক। তোরে এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলেছে মহসিন ভাই। আর প্রতি মাসে ৫০ হাজার করেও মাসিক চাঁদা দিতে হবে।
বেকারী মালিক সোহেল বলেন,আমার ছোট্ট দোকান। পুঁজিও অল্প। মাত্র ১৫ লাখ টাকা ইনভেস্ট করেছি। সেখানে আমি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দেবো কিভাবে? আমার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দেয়াও অসম্ভব। আমি বলেছিলাম ১০ হাজার করে টাকা দেবো। তখন আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়,দাবি করা টাকা না দিলে সমস্যা হবে। মিরপুরে ব্যবসা করতে পারবি না।
এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল পল্লবী থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) লেখি। জিডি নাম্বার ২৩০৩। পল্লবী থানার উপপরিদর্শক আবুল হোসেন বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব নেন।
জিডির করার ১৫ দিন অতিবাহিত না হতেই আমাকে খুন করতে বেকারিতে হামলা হয়। এসব ওই মহসিনের কাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিতে দিয়ে মালিক সোহেল বলেন,মিরপুর ১১ নম্বরের ই-ব্লকে 'মায়ের দোয়া' নামক আমার বেকারির দোকান। রোববার সকালে প্রতিদিনের ন্যায় পূর্বের অর্ডারের মাল বিক্রি করছিল বেকারির ব্যবস্থাপক শিপন (১৮)। সকাল ৬টার দিকে কয়েকজন যুবক এসে দোকানে আমার খোঁজ করে। আমাকে না পেয়ে শিপনের ডান পায়ে গুলি চালিয়ে এক যুবক বলে,তোর মালিক আসলে বলে দিবি এলাকায় ব্যবসা না করতে। টাকা দিলে ব্যবসা করতে পারবে নইলে উপরে পাঠিয়ে দেবো।
পরে দোকানের অন্য কর্মচারীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন চলে আসলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
সোহেল জানান,ঘটনার খবর শুনে আমি বেকারিতে ছুটে আসি। শিপনকে গুরুতর আহত অবস্থয় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর সাড়ে বারোটার খবর অনুযায়ী শিপনের জ্ঞান ফেরে নি বলে জানান তিনি।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হোসেন জানান, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বেকারির মালামাল বিক্রির কাজ চলছিল। এ সময় অজ্ঞাত যুবকরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যান। বেকারির মালিককে না পেয়ে কর্মচারী শিপনের পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সৈয়দ জিয়াউজ্জামান টাইমনিউজডিবিকে বলেন,দীর্ঘদিন থেকে এলাকার আন্ডারগ্রাউন্ড কিলার গ্রুপের নেতা সাহাদাত। সাহাদাতের ছত্রছায়ায় ছোট ভাই বলে পরিচিত মহসিন হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর কিলার। এর আগে একাধিক হত্যার ঘটনার মূল হোতা হিসেবে কাজ করেছে মহসিন। কিন্তু মহসিন দেশের বাইরে থেকে এসব করছে দাবি করে ওসি বলে,আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি মহসিনের সহযোগীদের গ্রেফতার করার জন্য।
বেকারির কর্মচারীকে যারা গুলি করেছে তাদের গ্রেফতারের জন্য ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান ওসি জিয়াউজ্জামান।
[b]ঢাকা,জেইউ,১২ মে(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস[/b]