[b]ঢাকা:[/b]মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’র দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের দুই শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা।
একই সঙ্গে ঢাকা ও দেশজুড়ে এর কর্মীদের ওপর নজরদারি এবং হেনস্থা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল,নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আইনজ্ঞদের আন্তর্জাতিক কমিশন বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়,মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ভিতিপ্রদর্শণ ও তাদের ওপর নজরদারিকে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতেই নকশা করা হয়েছে। তাই সংগঠনটির কর্মীদের ভীতি প্রদর্শণ ও হেনস্থা না করার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে এবং চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
গত বছর ৫ ও ৬ মে ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও বিক্ষোভে সহিংসতা এবং হতাহতের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অধিকার। তবে সরকার সেই প্রতিবেদনকে অসত্য ও ভুল দাবি করে ৫৭ ধারা মোতাবেক তথ্য প্রযুক্তি আইনে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান এবং পরিচালক নাসিরুদ্দিন ইলেনের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ আনে।
এরমধ্যে গত ১১ আগস্ট আদিলুরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৬২ দিন পর হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান। আদিলুরকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ অধিকার অফিসেও অভিযান চালায় এবং কম্পিউটার ও সাক্ষীদের পরিচয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে। অপরদিকে নাসিরুদ্দিন ইলেনকেও পুলিশ আটক করার পর গত ৬ নভেম্বর তিনি জামিন পান।বর্তমানে অবশ্য তারা দুজনই জামিনে আছেন এবং আদালত তাদের অভিযোগের শুনানি ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক পলি ট্রুস্কট বলেন,‘অধিকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের এক মুখপাত্রর মাধ্যমে শ্যুটিং করে বলেছে,নিরাপত্তা বাহিনী আইনের মধ্যেই রয়েছে। যখন অধিকারের মতো একটি মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে, তখন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তা না শুনে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরগুলোর মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সরকারের উচিত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত, তথ্যের স্বাধীনতা এবং সাক্ষীদের কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।’  
৫ ও ৬ মের হেফাজতের সমাবেশের ওই ঘটনা সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের তদন্তে জানিয়েছে,সেদিন মোট ৫০ জন নিহত হয়েছিল এবং আহত হয়েছিল দুই সহশ্রাধিক। ৬ মে রাতে নিরাপত্তা বাহিনী হেফাজতের কয়েক হাজার কর্মীকে মতিঝিল থেকে অভিযান চালিয়ে হটিয়ে দেয়। এরমধ্যে পুলিশ অনেক ঘটনাতেই আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করেনি। অন্য ঘটনাগুলোতেও পুলিশ আইনবিরুদ্ধভাবেই শক্তি প্রয়োগ করেছিল।  
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন,‘গণতন্ত্রে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করা উচিৎ নয় বিশেষ করে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকাণ্ডে। তাই এই অভিযোগ তুলে নিয়ে সুশীল সমাজের অধিকার মেনে নিতে হবে যাতে রাজনৈতিক পরিধির বিস্তিৃতির জন্য বাংলাদেশের সব পক্ষের মধ্যে সঠিক আলোচনায় তারা সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে।’ একইসঙ্গে এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি আইন বিশেষ করে ৫৭ ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।সংগঠনটি বলছে,এই ধারার কিছু বিষয় সুশীল সমাজের ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন করে। এখানে যে অপরাধের কথা বলা হয়েছে তা অস্পস্ট। এটি দ্বারা মত ও অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ি প্রত্যেকের মত প্রকাশ, অধিকার ও তথ্য চাওয়া,পাওয়ার স্বাধীনতা আছে।