হবিগঞ্জে মরা গরুর মাংস বিক্রির সময় এক কসাইকে হাতেনাতে আটক করে জনতা। জেলা শহরের সিনেমা হল বাজারে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। জনতা আটককৃত কসাই সোহেলকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কসাই সোহেলের মাংসের দোকান গুড়িয়ে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শহরতলীর জালালাবাদ নোয়াগাঁও গ্রামের আঞ্জব আলীর পুত্র সোহেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা হল বাজারে ‘সোহেল মাংস ঘর’ নামে দোকানে ঋষিদের মাধ্যমে মরা গরুর মাংস এনে অন্যান্য মাংসের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করছে। ঘটনাটি অবগত হয়ে ব্যবসায়ীরা ইতোপূর্বে কয়েকবার তাকে শাসিয়ে যান। কিন্তু তাদের কথায় কর্ণপাত না করে সোহেল অবাধে মরা গরুর মাংস বিক্রি করে আসছে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় একটি বস্তায় এক ঋষি সোহেলের দোকানে মরা গরুর মাংস দিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ব্যবসায়ীরা সদর থানা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে থানার এসআই ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ এসে সোহেল মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ যাচাই বাছাই করে ঘটনার সত্যতা পায়। পরে উত্তেজিত জনতা সোহেলের মাংসের দোকান গুঁড়িয়ে দেন।
এ ব্যাপারে সিনেমা হল বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া জানান, সোহেল এ বাজারে ভবিষ্যতে যাতে ব্যবসা করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি সোহেলের লাইসেন্স বাতিলের জন্য পৌর মেয়রের কাছে জোর দাবি জানান।
জানা গেছে, জেলা শহরে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী মরা গরুর মাংস বিক্রি করছে। তারা ঋষিদের এক থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মরা গরুর মাংস সংগ্রহ করে, ওই মাংসের সাথে এক ধরনের কেমিকেল ব্যবহার করে। এ কেমিকেল ব্যবহার করার পর মাংস তাজা থাকে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা বুঝতে পারেন না, এটা মরা গরু কিংবা জবাই করা গরুর মাংস।
[b]ঢাকা, ০৫ মে (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]