সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদী-নালাসহ সকল প্রকার জলাধার দূষণ, দখল ও ভরাটের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলি প্রতিরোধে একটি বিধিমালা প্রণয়ন জরুরী বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশ্ব পানি দিবসের মতবিনিময় সভার বক্তারা।
তারা বলছেন, বিশ্বে প্রায় ৭৮ কোটি মানুষ পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং প্রতি বছর পানিজনিত রোগে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশেও পানি সঙ্কট আসন্ন। অথচ বৃহৎ সুপেয় পানি সমৃদ্ধ এবং নদী-নালার দেশ বাংলাদেশ।
শনিবার সকাল ১১টায় ডাব্লিউবিবি মিলনায়তনে 'পানির উৎস সংরক্ষণে আইন ও নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়নে করণীয়' শীর্ষক এ মতবিবিনময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট।
সভায় পনির উৎস সংরণে পানি আইন অনুসারে জলাধার রক্ষায় একটি পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা; সিএস এর আলোকে জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) প্রযুক্তির মাধ্যমে সিএস অনুসারে নদী, খাল, হাওর, বাওয়ার, পুকুরগুলো সীমানা চিহ্নিত ও প্রকাশ করা; জেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব প্রদান জলাধারগুলো উদ্ধার করা;
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতা প্রদান জলাধার সংরন করা; জলাধার রক্ষার আইনের বাস্তবায়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাজেট বরাদ্দ; জলাধার রক্ষায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন করা; জলাধার রায় ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বাঁচাও অন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান। নির্ধারিত অলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরিফ জামিল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স (বিআইপি) এর সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান,
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন) মোঃ জাফর সিদ্দিকী এবং ঢাকা দণি সিটি কর্পোরেশনের ফুড ও স্যানিটেশন অফিসার এস. এম. মোশারফ হোসেন মিলন প্রমূখ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম এবং সভা সঞ্চালনা করেন ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার মারুফ রহমান।
সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, আমাদের দেশে প্রাকৃতিক জলাধার ছাড়াও কৃত্রিমভাবে তৈরি অসংখ্য জলাধার যেমন পুকুর, দীঘি, খাল রয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অর্ন্তগত জলাধারগুলো রায় সুষ্পষ্ট আইন না থাকলেও, প্রাকৃতিক জলাধার রায় আইন রয়েছে।
কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, বিদ্যমান আইন প্রয়োগে দূর্বলতা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও মনিটরিং-এর সীমাবদ্ধতা, পার্যাপ্ত বাজেট না থাকা ও অদূরদর্শীতার কারণে দেশের অনেক জলাধার ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন চুড়ান্ত সময় এসেছে এ সকল দূর্বলতা কটিয়ে সমস্যার সমাধান করা।
মহিদুল হক খান বলেন, পানির উৎস সংরণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শরিফ জামিল বলেন জলাধার রায় অভ্যন্তরীন নীতি ও আইনের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে পাশ্ববর্তী দেশসমূহের সঙ্গে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে সংলাপ ও প্রয়োজনে আইনি পদপে গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেেেত্র আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিসমূহ অনুসরণ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জলাধারসমুহকে সম্মূখে রেখে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হলে তবেই এগুলি রা করা সম্ভব। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন যতদিন বুড়িগঙ্গাকে সামনে রেখে আমাদের উন্নয়ন ঘটেছে ততদিন এটি জীবিত ছিল। বর্তমানে এর দূর্দশার কারণ হচ্ছে এটির পেছনে পড়ে যাওয়া।
তাই ভবিষ্যতে যে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে জলাধারসমূহ সামনে রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, নগরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনসমূহ যেন লঙ্ঘিত না হয় সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়।
তিনি বর্তমানে জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শহরের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের েেত্র পানির উৎস সংরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান জানান।
[b]ঢাকা, ২২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]