গত ৪ বছরে রাজউকের ৪১২টি প্লটের আকার বৃদ্ধির এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধা ভোগীদের মধ্যে দুদক কমিশনার নাসির উদ্দীন, দুদক সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরীসহ দুদকের আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছে।
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব  বলেন, আমরা(তিনি) আবেদন করে প্লট নিয়েছি।আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরি করি। আমারা একত্রে ১০ কাঠা প্লটের আবেদন করি। রাজউক ৫কাঠা বরাদ্দ দেয়, পরে ঐ প্লটকে সাড়ে ৭ কাঠার পরিণত করে রাজউক।
তিনি বলেন, প্লট জালিয়াতির ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ সচিব শওকতের বিরুদ্ধে ৩ মামলার তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে অনিয়ম এবং জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
বুধবার দুপুরে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের সচিব এ কথা বলেন। এ সময় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র্যােবের তিন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কোটি কোটি টাকার লেন-দেন এবং অবৈধ সম্পদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে দুদক।
অনুসন্ধান শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব মো: ফয়জুর রহমান চৌধুরী।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারি বিদেশী অতিথিদের সম্মাননা প্রদানের নামে নকল সোনার ক্রেস জাতিয়াতি ঘটনায় সরকারের কাছে তথ্য উপাত্ত চেয়েছে দুদক।প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পাওয়ার পরই এ বিষয়ে দুদক ব্যবস্থা নিবে।
তিনি বলেন, হলমার্ক গ্রুপের নন ফান্ডের প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় অনুসন্ধান ও মামলা করবে না দুদক। কারণ নন ফান্ডের ঘটনা এক ব্যাংকের সঙ্গে আরেক ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জড়িত।আমরা চাই ব্যাংক নিজেরাই এই সমস্যার সমাধান করুক। তারপর যদি ব্যাংক এবিষয়ে কোন অভিযোগ দেয় সেটি দুদক দেখবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, দুদকের ২০১৩ সালের কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদন আজ বিকালে রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
তারেক রহমানের রায় প্রদানকারি বিচারক মোতাহার হোসেনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়টি অনুসন্ধান চলছে।যেহেতু বিচারক উপস্থিত নেই সে দেশের বাইরে এর জন্য একটু দেরি হচ্ছে।তবে বিচারককে দেশে আনার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে এটি দুদকের বিষয় না।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গত চার মাসে ৮৮টি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। একই সঙ্গে ১৪২টি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল ও ১৬১টি চার্জশীটও অনুমোদন করেছে দুদক।
দুদক সচিব বলেন, গত চার মাসে দুদকে ৩০৪৮টি অভিযোগ জমা পড়ে কমিশন।কমিশনের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় ২৫০৭টি আভিযোগ বাদ পড়ে এবং যাচাই বাছাই শেষে ৪৫০ টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়।
তিনি বলেন, ৪৫০টি মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত প্রতিবেদনের সংখ্যা ৪৯টি বলে তিনি জানান।এর মধ্যে গত ৪ মাসে মামলা নিষ্পত্তি সংখ্যা ৪০টি সাজা হয়েছে ১৪টি এবং খালাস সংখ্যা ২৬টি বলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ্য করেন।
এ সময় তিনি বলেন, গত এপ্রিলে মাসে মামলা দায়েরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিআইডি পরিদর্শক গোলাম সারোয়ারের ও তার ছেলে সোলায়মানের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন দেয়।
এছাড়া এপ্রিলে মাসে ৩৮টি মামলার চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন এবং এ সকল মামলায় ৮৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
[b]ঢাকা,একে, ২১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]