চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশপাশি কমিশনে এ বিষয়ে রিপোর্টও দিতে বলা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়,গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫ দফায় ৪৮৭  মধ্যে ৪৫৮  উপজেলায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়।
প্রথম দফায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও ২৬৪ কেন্দ্র দখল,ব্যালট ছিনতাই ও জাল ভোটের ঘটনা ঘটে। ১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় সহিংসতার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ দফায় অন্তত ৫৯৮ কেন্দ্র দখল,ব্যালট ছিনতাই,জাল ভোট ও হামলার ঘটনা ঘটে।  একটি উপজেলার ১১৭টিসহ মোট ১৫৪ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
তৃতীয় দফায় ১২৭৫ কেন্দ্রে সহিংস ঘটনা ঘটে। এ দফায় ৩৩ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
চতুর্থ দফায় সহিংসতা আরও বেড়ে যায়। এতে ১৭২০ কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা
ঘটে। ৩৪ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। পঞ্চম দফায় সহিংস ঘটনা কম
হলেও কেন্দ্র দখলের ঘটনা বেড়ে যায়। এতে  অন্তত ৩০৩২ কেন্দ্র দখল করে জাল
ভোট দেয়া হয়। এ দফায় ২৫ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে।
এছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা,পোলিং কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জাল ভোট
দিতে বাধ্য করা হয়। এমনকি  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ক্ষমতাসীন
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে  জাল ভোট দেয়।
উপজেলা নির্বাচনের কোন কেন্দ্রে কি হয়েছে তার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় মাঠ কর্মকর্তারা। এরই পরিপেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখাসহ  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে  নির্দেশ  দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ।  পাশপাশি কমিশনে এ বিষয়ে রিপোর্টও দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন,প্রথম দফা উপজেলা
নির্বাচনের পর  বিভিন্ন  উপজেলা থেকে অভিযোগ আসলেও এ ব্যাপারে এক রকম
নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল কমিশনাররা। নির্বাচনে সার্বিক অবস্থা থেকে
মনে হয়েছে অনিয়ম রোধে কমিশনের সদিচ্ছার অভাব ছিল। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য কমিশনের হাতে যথেষ্ট আইন ও শক্তি রয়েছে। কমিশন তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করলে নির্বাচনে অনিয়ম কম হতো।
[b]ঢাকা, এম, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ
[/b]