[b]ঢাকা:[/b]১২ তারিখে যে সরকার গঠিত হতে চলেছে তা জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার হবে না বলে দাবী করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন,এ সরকার কোন মহল থেকেই নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা পাবে না। এজন্য অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য উত্তম।
শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবী করেন।
সরকারের প্রতি অভিযোগ করে তিনি আরো বলেছেন, তামাশার নির্বাচন থেকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা সৃষ্টি করে এর জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাচ্ছে সরকার। আর এ জন্য প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর এবং তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এটা তাদের অপকৌশল। এই সত্য ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একের পর এক এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী দলের ওপর দোষারোপ করে বিরোধী দলকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চরমতম কলংকময় প্রহসনের নির্বাচন ছিল ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর তথাকথিত নির্বাচনের তামাশা। গণতন্ত্রের সকল বিধি-বিধানের পরিপন্থী, অনৈতিক এবং অবৈধ। মেরুদণ্ডবিহীন,অযোগ্য,নির্বাচন কমিশন সরকারের নীল-নকশার নির্বাচনকে বাস্তবায়িত করতে গিয়ে অতীতের সকল অজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও হার মানিয়েছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গণতন্ত্র আরেকবার আওয়ামী লীগের হাতে নিহত হলো।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নতুনভাবে তথাকথিত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পীকার। মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার গঠন করতে আহ্বান করেছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি অসাংবিধানিক বলে ইতিমধ্যে প্রায় সকল সংবিধান বিশেষ্ণরা বলেছেন এবং সংবিধানে লংঘন করার দায় নির্বাচন কমিশন, স্পীকার এবং রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তমানে বলে অভিমত দিয়েছেন।
এজন্য আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই রাষ্ট্র এখন একজন ব্যক্তির একগুয়ে স্বৈরাচারী আচরণের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় টিকে থাকায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে সংসদকে ব্যবহার করে এভাবেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করার অপচেষ্টা করেছিলো এই দলটি।
সরকারের প্রতি অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলের ওপর  নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি হিসেবেই প্রায় ৫০ হাজার নেতা-কর্মী সাধারণ নিরীহ মানুষকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষকে বিনা কারণে ৬ মাস থেকে ১ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কুক্ষিগত করবার এই হীন কৌশল গণতন্ত্রকামী মানুষ মেনে নেবেনা।
তিনি দাবী করেন, ১২ জানুয়ারি তারিখে যে সরকার গঠিত হবে তা হবে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিত্বহীন স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের একটি সরকার। এই সরকার কোনদিক থেকেই বৈধ সরকার হিসাবে দেশে-বিদেশে বিবেচিত হবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধী দলের প্রতি হুমকির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার এই হুঁশিয়ারীতে গণতান্ত্রিক আচরণের লেশ মাত্র অবশিষ্ট নেই। সমঝোতা, সহনশীলতার পথ তিনি চেনেন না। কলংকিত, লজ্জাকর, ধিকৃত প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার করে তিনি এখনও অহংকার ও দাম্ভিকতা দিয়ে সামনের দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান। কূটকৈৗশল, ছলচাতুরী, রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সাময়িকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যেতে পারে চিরস্থায়ীভাবে নয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে কোন ও স্বৈরাচারী একনায়কই জনগণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়নি-আওয়ামী লীগও সক্ষম হবে না।