রোববারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী কেন্দ্রে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সারাদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো-
[b]লক্ষ্মীপুর:[/b] লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কোমরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে শনিবার রাত ৯টার দিকে ১৮দলীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে পুলিশের ২টি রাইফেল ছিনিয়ে নিয়েছেন। এ সময় অগ্নিদগ্ধ হন কনস্টেবল ইমাম উদ্দিন।
এদিকে, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের নির্বাচনী সরঞ্জাম বহন করায় একটি মিনি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করেছে নির্বাচন বিরোধীরা। তবে এ সময় ওই গাড়িতে নির্বাচনী কোনো সরঞ্জাম ছিল না।
[b]হবিগঞ্জ:[/b] হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে তোপখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুনে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পুড়ে যায়। এ ছাড়া সোয়া ৯টায় উপজেলার তকবাজখানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও আগুন দেওয়া হয়।
[b]গাজীপুর:[/b] ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার নুরবাগ এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গরুবাহী ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করলে চালক ও হেলপার অগ্নিদগ্ধ হন। এ ঘটনায় ট্রাকে থাকা আরো ৫ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ছয়দানা এলাকায় শনিবার রাতে দুইটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি বাসে এবং শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছেন হরতাল সমর্থকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,রাত সোয়া ৭টার দিকে ছয়দানা এলাকায় অবরোধকারীরা দুইটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ভাংচুর করে। পরে তারা  গাড়ি ৩টিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান।
[b]ভোলা: [/b]ভোলা জেলা শহরে বাসে ও টেম্পুতে আগুন,নির্বাচন অফিস ভাংচুর ও বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিজেপি কর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১১জন আহত হয়েছেন। এ সময় আটক করা হয় ৩ জনকে। এ ছাড়া, শহরের মোল্লা ব্রিজ এলাকায় একটি টেম্পু ও চরফ্যাশনে বিআরটিসি বাসে আগুন দেয় দুবৃর্ত্তরা।
এদিকে, ভোলার চরফ্যাশন বাজারের বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় কে বা কারা। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, খুলনাগামী একটি বিআরটিসি বাস মসজিদ সড়ক এলাকায় যাত্রীহীন অবস্থায় দুদিন ধরে অবস্থান করছিল। রাত সাড়ে ৭টায় হঠাৎ করে ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
এ ছাড়া, উপজেলা কার্যালয় চত্বরের নির্বাচন অফিসে আগুন দেয় ওই চক্র। ওই সময় উপজেলা চত্বরে একটি মটর সাইকেলও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অপর দিকে, ভোলার চক বাজার থেকে ৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। শহরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় র্যা ব ও নৌ বাহিনী টিম।
[b]রংপুর:[/b] রংপুরের পীরগাছায় শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আরো একটি ভোট কেন্দ্র ও সেখানে থাকা পুলিশের ব্যবহৃত ৪টি গাড়ি এবং ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দিয়েছেন নির্বাচনের বিরোধীরা।
জানা যায়,নির্বাচন বিরোধীদের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান উপজেলার ছাওলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রটিতে। তারা এ সময় সেখানে অবস্থানরত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও পোলিং এজেন্টদের জিম্মি করে ব্যালট পেপার,ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে কেন্দ্রটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে সেখানে থাকা পুলিশের ব্যবহৃত ৪টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পীরগাছার ৩টি কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।
[b]চট্টগ্রাম: [/b]শনিবার রাতে বিকট শব্দে একযোগে ককটেল বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরী। ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতংক। রাস্তাঘাট জনশুন্য হয়ে যায়। অনেক ভোটকেন্দ্রের সামনে একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রাত পৌনে ৮টায় নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে অন্তত: ১০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয় প্রচন্ড শব্দে।
এ ছাড়া রাতে নগরীর কলসি দিঘির পাড়, আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মধ্যম হালিশহর,আসকার দিঘীর পাড়,মোমিন রোডে কদম মোবারক স্কুলের সামনে,রহমতগঞ্জ মোড়ে,কাটগড়,সীতাকুন্ডের তুলাতলি এলাকায় জলিল টেক্সটাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় আতংকে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও বিজিবি’র গাড়ি সেখানে গিয়ে টহল দেয়। আশপাশে তল্লাশি চালায়। এ ছাড়া শনিবার রাত ৮টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে বাড়বকুন্ডে একটি মালবাহী ট্রাকে আগুন এবং পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।  
[b]নারায়ণগঞ্জ:[/b] শনিবার রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার ৩০ টি ভোটকেন্দ্রে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ খবরে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
[b]কুষ্টিয়া: [/b]কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া ব্রিজের কাছে একটি বালুভর্তি ট্রাকে পেট্রোল বোমা হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন ট্রাকের ড্রাইভার আশাদুল (৪৫) ও  হেলপার নজরুল (৪০)।
এদিকে, সন্ধ্যার পর কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ৫টি ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অপরদিকে, কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় চকরগুহা স্কুল ভোট কেন্দ্র,ছুন্দা নন্দলালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ পৃথক তিনটি স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
[b]পিরোজপুর:[/b] পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনের পৌর শহরের ওহাবিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে নির্বাচন বিরোধীরা। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তবে কেউ আহত হননি।
[b]বগুড়া:[/b] বগুড়ায় হরতাল ও অবরোধকারীরা শনিবার রাতে স্টেশনে ককটেল হামলা চালিয়েছে। তারা স্টেশনের বুকিং অফিস ও একটি বেকারিতে আগুন দিয়েছে। আগুনে বুকিং অফিসের মূল্যবান কাগজপত্র ও বেকারির কিছু খাবার পুড়ে যায়।
স্টেশন মাস্টার বেলাল হোসেন জানান, শনিবার রাত সোয়া ৭টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত স্টেশনে আসে। তারা ২-৩টি ককটেল বিস্ফোরণ করে ত্রাস সৃষ্টি করে। এরপর বুকিং রুম ও জনৈক আবু মোহন চৌধুরীর বেকারি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেল কর্মচারিরা দ্রুত বের হয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। আগুনে বুকিং রুমের মুল্যবান কাগজ ও আসবাবপত্র এবং বেকারির কিছু খাবার পুড়ে যায়। এ সময় স্টেশনে থাকা যাত্রী ও রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে আতংক দেখা দেয়। ভয়ে অনেকে ছোটাছুটি করেন। মাস্টার আরও জানান,গতকাল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শিডিউল ঠিক ছিল না।
[b]যশোর:[/b] যশোরের মনিরামপুরের চান্দুয়া শমসকাটি গ্রামে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এতে পুলিশ-আনসার মিলিয়ে আহত হয়েছেন নয়জন। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা,অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। আহতরা সকলেই পুলিশ ও আনসার সদস্য। শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান,সন্ধ্যায় পুলিশের একটি মোবাইল টিম মনিরামপুর সদর থেকে শমসকাটির দিকে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ একদল লোক গাড়িকে আক্রমণ করে। তারা পুলিশের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিতে আগুন দেয়,ভাংচুর করে। পুলিশ এ সময় গুলিবর্ষণ করে হামলাকারীদের হটিয়ে দেয়।
[b]ঝিনাইদহ:[/b] শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ী ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন বিরোধীরা স্কুলের একটি কক্ষের টেবিল,চেয়ার-বেঞ্চ ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিছানা ও কাপড়-চোপড় জড়ো করে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেন। এ সময় তারা ৮-১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এ ছাড়া, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ আলীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,ভাংচুর করা হয়। এ সময় ৫-৭ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।