[b]ঢাকা:[/b] দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তান্ডব, বিরোধী জোটের উপর  নির্যাতন,পেটুয়া বাহিনীর অপতৎপরতা ও ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ স্বত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোট বর্জন করেছে দেশের সাধারণ মানুষ বলে মন্তব্য করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ওসমান ফারুক।
১০ম জাতীয় সংসদের তথাকথিত নির্বাচন শেষে আজ রোববার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় এই ফ্যাসিস্ট সরকার অবৈধ সরকার। জনগণ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগণ ভোট প্রত্যাখানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকেই প্রত্যাখ্যান করলো।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন,জনগণ শুধু রোববারের এই প্রহসনের নির্বাচনকে প্রতাখ্যান করেননি, এই স্বেরাচারী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকেই হিমাগারে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ নেত্রী ও দলের একাধিক এমপি-মন্ত্রী দম্ভ করে বলেছিলেন, বিএনপি ও জামায়াতের ভোট ঠেকানোর ক্ষমতা নেই। জনগণ দেখিয়েছে কিভাবে ভোট বর্জন করতে হয়।
তিনি আরো বলেন,ভোট বর্জনকারী জনগণের স্বত:স্ফূর্ত সমর্থনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন একটার পর একটা ভোট কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, জনগণ স্বত:স্ফূর্ত ভোট বর্জন করে বিরোধী জোট নেত্রীর আহ্বানে সাড়া দিচ্ছিল, তখন আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক নিপীড়ন শুরু করে।
সরকার সমর্থক দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী কেন্দ্র দখল করে এবং ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে।
এমনকি নির্বাচনী সময়সীমা শেষেও প্রশাসনের সহায়তায় ব্যালট পেপারে সিল মারার প্রমাণ রয়েছে।
ওসমান ফারুক বলেন,ভোট বর্জনের আন্দোলনে শরিক হওয়ায় যৌথ বাহিনীর সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি নেতা হাবীব,জয়নাল, সেলিমসহ ৪ জনকে হত্যা করেছে।
দিনাজপুর জেলায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহায়তায় যৌথ বাহিনী ১৮ দলের শান্তিপ্রিয় মিছিলে গুলি চালিয়ে হত্যা করে বিএনপি নেতা বাবুল ও যুবদল কর্মী মাহফুজকে।
এভাবে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থক ও যৌথ বাহিনীর হামলায় ও গুলিতে নিহতদের সংখ্যা উল্লেখ করেন।
তিনি জানান,এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আমরা আশঙ্খা করছি।
তিনি বলেন,বিরোধী দলের এই আন্দোলনে জনগণের বিজয় হয়েছে,বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের।
ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ভোটদানে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রীদের আহ্বানকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে।
জনগণ ভোট কেন্দ্রে যায়নি। ভোট প্রদান করে নি। এর দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে সরকার জনরগণ হতে পরিপূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই।
গুন্ডা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ভর করে অত্যাচার,নির্যাতন নিপীড়ন করে এই সরকার টিকে থাকতে চেষ্টা করছে।
এই জনবিচ্ছিন্ন সরকার,স্বৈরাচারী সরকার,এই জালিম সরকার পতন হবেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এরপরেই তিনি ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সোমবার ভোর থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি চলবে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধও।
নতুন এ কর্মসূচি পালনের জন্য আপামর জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।