[b]রাজশাহী: [/b]মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো তীব্র শীতে জবুথবু রাজশাহী। হিমালয় ছুঁয়ে আসা কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে উত্তর জনপদের মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছে দুর্ভোগে।
এদিকে,রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছেই। শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যাই বেশি বলে জরুরী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা রাজশাহী।
রাজশাহীতে শুক্রবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক প্রকাশ চন্দ্র ঘোষ জানান,গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবার বুধবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে স্বাভাবিকভাবেই এটি শৈত্য প্রবাহ নয়। কিন্তু দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এছাড়া দিনভর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন আবহাওয়া ও হালকা বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তবে তাপমাত্রা হ্রাসের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে তা মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্য প্রবাহে রূপ নিতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে,শীতের দাপটে দুর্ভোগ বাড়ছে মহানগরীর ভাসমান ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর। সামর্থ অনুযায়ী গরম কাপড় কিনতে ভীড় জমাচ্ছেন মহানগরীর ফুটপাত ও ভাসমান দোকানগুলোতে। এরই মধ্যে দুঃস্থদের সহায়তায় কম্বলসহ শীতের পোষাক বিতরণ শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে। সরকারি উদ্যোগেও এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে সীমিত পরিসরে। তবে প্রয়োজন মিটছে না।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, শীত মোকাবেলায় এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৮০ লাখ টাকা অথবা ওই পরিমাণ মূল্যের শীতবস্ত্রের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় সাড়ে পাঁচ হাজার এবং দ্বিতীয় দফায় সম্প্রতি আরও পাঁচ হাজার কম্বল দুঃস্থ শীতার্ত ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ে শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।