সার্বিক প্রস্তুতি ছাড়াই ভোটার তালিকার হালানাগাদের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের ১৮১ উপজেলায় প্রথম দফার কার্যক্রম শুরু হবে। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে বা তার আগে এবং যারা ইতোপূর্বে ভোটার হতে পারেননি তাদেরই এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ উপজেলায় ভোটার নিবন্ধন ফরম পৌঁছেনি। তবে ইসি থেকে বলা হচ্ছে, কাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্টরা সেগুলো বুঝে পাবেন।
ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুক বলেন, ভোটার নিবন্ধন ফরম এখনও পাইনি। তবে হালনাগাদে কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানান।
পটুয়াখালীতে দায়িত্বরত ইসির কমকর্তা আবুল কাশেম বলেন, নিবন্ধন ফরম এখনও পাওয়া যায়নি। বহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে পৌঁছালেও আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য প্রতিটি এলাকায় নিবন্ধন কেন্দ্র থাকবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা এ সময়ে প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হওয়ার যোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটার তালিকা হতে মৃতদের নাম বাদ দেয়ার জন্য বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করবে। সুপারভাইজাররা এ তথ্য যাচাইবাছাই করবেন।
এদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে ভোটার হওয়ার যোগ্য কেউ বাদ পড়লে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারবেন। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৬ মে থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রে গড়ে ১০ দিন ভোটার নিবন্ধন করা হবে।
সারাদেশে ৪ হাজার ৫৮৩ ইউনিয়ন পরিষদসহ পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রতি ইউনিয়ন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১টি করে, প্রতি পৌরসভায় ১ থেকে ২টি, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি ওয়ার্ডে ১টি কেন্দ্র স্থাপনসহ প্রথম পর্যায়ে সারাদেশ ১ হাজার ৮শ’ কেন্দ্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৮৫০ জন নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ধরে প্রথম দফায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হবে শুধু তারাই নতুন ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হবেন। অর্থাৎ যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে বা তার আগে এবং যাঁরা ইতোপূর্বে ভোটার হতে পারেননি তাঁদেরই এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর আগে যাঁরা ভোটার হয়েছেন অথবা ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাঁদের নতুন করে ভোটার হওয়ার প্রয়োজন নেই। অথবা যাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
ভোটার হওয়ার জন্য বয়স প্রমাণে জন্ম নিবন্ধন বা পরীক্ষার সনদপত্র বিবেচিত হবে। তবে কমিশন থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কেউ যদি বয়স বাড়িয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন তাহলেও জাতীয় পরিচয়পত্রেও ভুল জন্ম তারিখ থাকবে। পরীক্ষার সনদপত্র, পার্সপোর্ট ইত্যাদির সঙ্গে জন্ম তারিখের গরমিলের কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
এ বিষয়ে ইসির এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে করে বলেন, সম্পূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়েই শুরু হচ্ছে তৃতীয়বারের মতো ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। সমন্বয়ের অভাবের কারণে নিবন্ধন ফরম এখনও মাঠ পর্যায়ে না পৌঁছায়নি। এর আগে ২০০৯ ও ২০১২ সালে ভোটা তালিকা হালনাগাদের কাজ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মিহির সরওয়ার মোর্শেদ বলেন, সার্বিক প্রস্ততি সম্পন্ন না করেই ভোটার তালিকা হালনাগাদেদর কাজ শুরু করতে হচ্ছে। তবে কার্যক্রম শুরু হলেই সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, নিবন্ধন ফরম ছাপানোর কাজ চলছে। বুধবার রাতের মধ্যেই এগুলো বিরতণ করা হবে। প্রথমে ৪০ শতাংশ ফরম দেয়া সম্ভব হবে।
[b]ঢাকা, এএম, ১৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
শ্রেণীহীন
দায়সারা প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে ইসি
সার্বিক প্রস্তুতি ছাড়াই ভোটার তালিকার হালানাগাদের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের ১৮১ উপজেলায় প্রথম দফার কার্যক্রম শুরু হবে। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে বা তার আগে এবং যারা ইতোপূর্বে ভোটার হতে পারেননি তাদেরই এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে





