সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে মৃত্যু হলে দালালরা ৬ জনের লাশ সুমদ্রে ফেলে দিয়েছে। ওই যুবকদের আরেক সহযাত্রী ফোনে নিহতদের স্বজনদের কাছে এ খবর নিশ্চিত করে।
নিহতরা সবাই নরসিংদী জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন নুরালাপুর গ্রামের আবু ছাইদের ছেলে আসাদ (৩৬), মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কাউসার (৩০), আব্দুস বাসেদের ছেলে মহসিন (৩৫) ও লোকমানের ছেলে মোতালিব (৩১)। আর পার্শ্ববর্তী আটালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ও আড়াইহাজার এলাকার আমিনুল ইসলাম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব থেকে মুক্তি পেতে গত ২৮ এপ্রিল দালালের মাধ্যমে সমুদ্র পথে পারি দিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার উদ্দেশে।
আসাদের দিনমজুর বাবা ছাইদ মিয়া জানান, একমাত্র ছেলে স্থানীয় সুজন টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকের কাজ করত। স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আসাদের ভালই দিন চলছিল।  ২৮ এপ্রিল হঠাৎ সে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরদিন ফোন করে জানায় সে এবং একই গ্রামের আরো তিনজন নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজারের দালাল আফাজ উদ্দিন ওরফে আব্বাসের মাধ্যমে জাহাজে করে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন রেখে দেয় এরপর থেকে তাদের আর খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ ব্যাপারে দালালের কাছে ফোন করলে সবাই ভালো আছে জানিয়ে সে প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা যোগার রাখতে বলে। এ খবর পেয়ে প্রত্যেক পরিবারই ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও তা দিতে রাজি হয়। এরই মাঝে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই জাহাজের যাত্রী আড়াই হাজার এলাকার আমিরুল নামে এক ব্যক্তি থাইল্যান্ড থেকে কাউসারের ভাই রফিজ উদ্দিনের মোবাইলে ফোন করে এ ঘটনা জানায়।
মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের স্বজনদের মাঝে গভীর শোক নেমে আসে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম কাসেম জানায়, এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে থানায় কেউ আসেনি এবং তিনিও এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।
[b]ঢাকা, ২৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ [/b]