[b]লন্ডন:[/b] বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিকে, প্রতিটি বাড়িকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “একাত্তরের সংগ্রাম ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর আজকের এই সংগ্রাম সার্বভৌমত্ব রক্ষার। সেই সংগ্রাম ছিল দেশকে হানাদার-মুক্ত করার। আর আজকের এই সংগ্রাম দেশে গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার। একাত্তরে আমরা এভাবে দেশকে হানাদারমুক্ত করেছিলাম। দেশবাসীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে এগিয়ে চলা এই আন্দোলনে যার-যার অবস্থান থেকে সবাই সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
নির্বাচনের পর স্থানীয় সময় রোববার রাতে লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, তামাশার নির্বাচনকে কার্যত রুখে দিয়েছে জনগণ। এর মাধ্যমে দেশবাসী একটি লক্ষ্য অর্জন করলো মাত্র। এটি চূড়ান্ত সাফল্য নয়। বরং চলমান স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এজন্য তিনি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদশের ভয়ানক এ দুর্যোগের সময়ে বর্তমানে যেন ন্যায়ের সঙ্গে অন্যায়ের, সত্যের সঙ্গে মিথ্যার এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতার মোহের লড়াই চলছে।”
তিনি বলেন, “বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রহসনের নির্বাচনকে প্রতিরোধ, প্রতিহত ও বর্জন করায় গণতন্ত্রকামী সমগ্র দেশবাসী ও ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের তৃণমূলসহ সব স্তরের নেতাকর্মীকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। সাধারণ জনগণ ঘরে-বাইরে সর্বত্র তাদের অধিকার হরণের এ নির্বাচনের বিরুদ্ধে যে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন-তা একাধারে রাজপথে থাকা আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক-তেমন দেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে মুক্ত আদর্শ ও চিন্তা প্রকাশের সহায়ক। ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সাফল্য ইনশাল্লাহ অনিবার্য।”
তারেক জিয়া বলেন, “আমাদের সবার মূল লক্ষ্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করে গণতন্ত্রকামী মানুষের চেতনার প্রতিফলন ঘটানো। সেই অভীষ্ঠ গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত সর্বাত্মক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের মাঝে অনেকেই দিনের পর দিন ধরে সংগ্রাম করছেন রাজপথে। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে সব শ্রেণী ও পেশার আরো কোটি-কোটি মানুষ সমর্থন, প্রেরণা, উচ্ছ্বাস ও দোয়া। আমি বিশেষভাবে বলতে চাই, সরকারের বাকস্বাধীনতা হরণের সব অপচেষ্টার মাঝেও অনেক গণমাধ্যম যেভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে দায়বদ্ধতা অব্যাহত রাখছে, তাতে মুক্তিকামী বাংলাদেশীরা আজ অনুপ্রাণিত।”
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের এ আন্দোলনে ইতিমধ্যে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ৫ জানুয়ারির প্রত্যাখ্যাত নির্বাচনের দিন সরকারের নির্বিচার গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি সাহসী সেনানী, আহত হয়েছেন অসংখ্য। নির্মম নির্যাতন ও জেল-জুলুমের স্বীকার হচ্ছেন অগুনিত মানুষ। সমগ্র বাংলাদেশ যেন আজ  এক রক্তের উপত্যকা। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাদের পরিবারসমূহের সেই আত্মত্যাগ সংগ্রামরত বাংলাদেশীরা ইনশাল্লাহ কোনোদিনই ভুলবে না। আত্মত্যাগের এই স্মৃতিই হবে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত আন্দোলনের সংগ্রামী প্রেরণা।”  
তিনি বলেন, “প্রবাসে চলমান চিকিৎসার কারণে বর্তমানে আমি অতীতের মতো রাজপথের আন্দোলনে শরিক হতে পারছি না। বিএনপির তৃণমূলসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর প্রতি আমার প্রত্যাশা-আমার শারীরিক অনুপস্থিতি যেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আজকের এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক বলেন, “আমার নির্দেশনা থাকবে:আপনারা নিজ-নিজ এলাকায় শত প্রতিকূলতার মাঝে হলেও সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখুন। সবাই এক হয়ে, আলোচনার মাধ্যমে, সাংগঠনিকভিত্তিকে মজবুত করে, নিজ-নিজ এলাকার জনগণকে একাত্ম করে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।”
আশাবাদ দিয়ে বলেন,“এক চুল পরিমাণ ছাড় না দিয়ে-জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে-গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইকে আপনারা পরবর্তী ধাপে উন্নীত করে দেশকে শিগগির স্বৈরাচার ও অপশাসন মুক্ত করবেন ইনশাল্লাহ।”
প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্যদের আহ্বান জনিয়ে বলেন, “শুধু সরকারি দায়িত্ম পালনের অজুহাতে দেশবিরোধী শক্তির হুকুম তামিলের সুযোগ নেই। কারণ আজ সরকার পক্ষ বলে কিছু নেই। পক্ষ শুধু গণবিরোধী স্বৈরাচারী বনাম দেশের মানুষ। ভেবে দেখুন আপনারা কোন পক্ষে থাকবেন। স্বৈরাচারীদের সূর্য অস্তগামী দেখেও যদি মানুষের পক্ষে থাকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তাহলে আপনারা কিন্তু ইতিহাসের পাতায় দায় এড়াতে পারবেন না।”
বিজয় সুনিশ্চিত দাবী করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “এই দেশটা আমাদের সবার। একে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সবার সর্বাত্মক ভূমিকা রাখতে হবে। তা আমরা সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকি, আর নাই থাকি। গণতন্ত্র রক্ষার্থে, গণমানুষ দ্বারা পরিচালিত, আমাদের গণমুখী গণআন্দোলনে, শরিক প্রত্যেককে, আবারো ধন্যবাদ। বিজয় আমাদের হবেই,ইনশাআল্লাহ।”