[b]ঢাকা: [/b]দেশের টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ খরা চলছে। ব্যাংকগুলোতে ঋণের চাহিদাও অনেক কমে এসেছে। অস্থিরতার মধ্যে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলোতে সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় এখন আর আগের মতো ঋণ বিতরণ করা যাচ্ছে না।
এতে ব্যাংকিং খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিছু ব্যাংক অবশ্যই বড় অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল করে প্রবৃদ্ধি ঠিক রেখেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক খাতের তিন ব্যাংকসহ ১২ ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আমানত ও ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় খাতের সোনালী ব্যাংকের ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ, জনতা ব্যাংকের ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের প্রচলিত ধারায় ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ ও ইসলামী উইংয়ে ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ে ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, বিদেশি খাতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৩২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, এইচএসবিসি প্রচলিত ধারায় ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ ও ইসলামী উইংয়ে ৪৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি (-) ঋণাত্মক হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, নেতিবাচক ঋণ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আমানতেও ৯ ব্যাংক ঋণাত্মক ধারায় নেমে এসেছে। ৫ ডিসেম্বর ’১৩ ভিত্তিতে বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ে ৪০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের ৮ শতাংশ, বিদেশি খাতের সিটি ব্যাংক এনএ ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ, এইচএসবিসি ইসলামী উইংয়ে ৯৮ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং আল-ফালাহ ইসলামী উইংয়ে ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক বছর আগেও আমানতের তুলনায় ব্যাংকগুলো বেশি পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে আসছিল। কিন্তু গত বছর জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশে কার্যত বিনিয়োগের কোনো পরিবেশ নেই। এতে ঋণ বিতরণে ভাটা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের বেসরকারি খাত। আর ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় অনেক ভুয়া প্রতষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থ বের করে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এতে নতুন ঋণ অনুমোদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি বাড়ায় ব্যাংকগুলো সতর্ক হয়েছে। যাতে করে ঋণ বিতরণে ঋণাত্মক ধারা নেমে এসেছে।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ভাটা ১২ ব্যাংকের
ঢাকা: দেশের টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ খরা চলছে। ব্যাংকগুলোতে ঋণের চাহিদাও অনেক কমে এসেছে। অস্থিরতার মধ্যে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না।





