হালদা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মাছ শিকার । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৎস অভয়াশ্রম গড়ে তোলাতে মৎস মন্ত্রনালয় প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র পুণঃরুদ্বার নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করেন । ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি আগামী জুন মাসে শেষ হবে ।
প্রকল্পের অধিনে হালদা নদীর তীরে বৃক্ষরোপন, হ্যাচারী নির্মাণ, হালদা নদীর সুফলভোগীদের মধ্যে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার কাজ করা হয় । রাউজান, হাটাহাজারী এলাকার হালদা নদীর সুফলভোগীদের মধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ঋণ বিতরণ ও দরিদ্র জেলে, মৎসজীবিদের মধ্যে ভিজিএফ এর চাউল বিতরণ করার পরও হালদা নদীতে থেমে নেই মাছ শিকার ও যান্ত্রিক নৌযান ।
হালদা নদীর তীরে হাটহাজারীর মেখল, রাউজানের পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া কাসেম নগর, আবুর খীল, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, নগরীর মোহরা এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকটি ইটের ভাটা, এছাড়া গালদা নদীর ফটিকছড়ি থেকে রাউজান- হাটহাজারী এলাকায় শতাধিক স্থানে প্রতিদিন নদী থেকে ড্রেজার পাওয়ার পাম্প বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ।
ইটের ভাটার ইট, ইট তৈরীর কাজে ব্যবহৃত মালামাল ও হালদা নদী থেকে উত্তোলন করা বালু প্রতিদিন যান্ত্রিক নৌযান করে পরিবহন করেন । যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের সময় পাখার আঘাতে অনেক সময় হালদা নদীতে বিচরণকারী মা মাছ মারা যায় । মা মাছ মারা গেলে এলাকার লোকজন মাছ ধরে বাজারে নিয়ে বিক্রয় করেন ।
বেশীরভাগ মাছ রাউজান হাটাহাজারীর বাজারে বিক্রয় না করে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউরী বাজারে বিক্রয় করেন । মাছ বিক্রয়ের সময় বলা হয় মাছটি কর্ণফুলী নদী ও কাপ্তাই হৃদ থেকে অথবা দেশের অন্য এলাকা থেকে ধরা হয়েছে । এছাড়া প্রতিনিয়ত হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে জাল ও বড়শী দিয়ে মাছ শিকার করে দুর্বৃত্তরা । মাছ ধরার পর এই মাছ বাজারে বিক্রয় করা হয় ।
নদীম পুর এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাসে এলাকায় হালদা নদীতে ১১ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ মরে নদীতে ভেসে উঠলে এলাকার লোকজন ধরে কাতলা মাছটি ভাগবাটোয়ারা করে নেয় ।
কয়েকদিন পূর্বে নগরীর কাজির দেউরী এলাকায় ১১ কেজি ওজনের কাতলা মাছ বিক্রয় করা হয় । গত শুক্রবার কাজির দেউরী বাজারে ২০ কেজি ওজনের আরো একটি কাতলা মাছ বিক্রয় করা হয় । কাজির দেউরী বাজারে বিক্রয় করা মাছটি হালদা নদীর বলে দাবী করছেন হালদা বিশেষজ্ঞরা ।
নাজির হাট থেকে কালুর ঘাট হালদা নদীর মোহনা পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদীতে মা মাছ রক্ষায় মৎস বিভাগ ৮ জন আনসার নিয়োগ দিয়েছে । তারা মদুনাঘাট এলাকায় থাকেন । ইঞ্জিল চালিত নৌকা নিয়ে আনসাররা মা মাছ রক্ষায় পাহাড়া দেওয়ার সময়ে নদীর একদিকে গেলে অন্যদিকে মাছ শিকার করে দুর্বৃত্তরা । ১৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ নাজির হাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত হালদা নদীতে আটজন আনসার দিয়ে মা মাছ রক্ষা করা হাস্যকর বলে এলাকার মৎসজীবিরা দাবী করেন ।
হালদা নদীর মা মাছ শিকার করা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা মৎস কর্মকর্তা হালদা প্রকল্প পরিচালক প্রভাতী দেব বলেন, কাজির দেউরী বাজারে যে কাতলা মাছ বিক্রয় করা হয়েছে সেই ব্যাপারে বাজারে তদন্ত দল পাঠানো হয়েছে তদন্তে হালদা নদীর মা মাছ প্রমানিত হলে হালদা নদীর মা মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
হালদা নদীর মা মাছ রক্ষায় আটজন আনসার সদস্যদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা মৎস বিভাগের লোকজন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপজেলা মৎস বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা, হালদা নদীর সুফল ভোগীরা মা মাছ রক্ষায় পাহারা দিচ্ছে বলে চট্টগ্রাম জেলা মৎস কর্মকর্তা হালদা প্রকল্প পরিচালক প্রভাতী দেব জানান ।
[b]ঢাকা, ৩১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
শ্রেণীহীন
হালদায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার
হালদা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মাছ শিকার । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মৎস অভয়াশ্রম গড়ে তোলাতে মৎস মন্ত্রনালয় প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র পুণঃরুদ্বার নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করেন । ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি আগামী জুন মাসে শেষ হবে ।





