নতুন সরকার শপথ নেয়ার ১৫ দিনের মাথায় খোদ সরকারি দলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সরকারি দলের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় টেন্ডার জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে লাঞ্ছিত করেছে। সোমবার দুপুরে নগরীর তেজগাঁওয়ের বিজি প্রেসে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সরকারের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের সমর্থক ও আওয়ামী লীগের অপর একটি গ্রুপ টেন্ডার জমাদানকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি ও টেন্ডারপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ মিলেছে।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গ্রুপের সদস্যরা অপর পক্ষের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।
ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকদের সাথে পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে টেন্ডার জামদানে বাধা সৃষ্টি করে।
জানা যায়, বিজি প্রেসের স্টেশনারি শাখার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংস্কার বিষয়ক টেন্ডার জমাদানের শেষ সময় ছিল সোমবার। টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ সময় হওয়ায় বিজি প্রেস এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সমর্থিত গ্রুপ।
মহানগর (উত্তর) যুবলীগের উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী তার দলবল নিয়ে টেন্ডারপত্র জমা দিতে আসেন। দুই গ্রুপই ঘটনাস্থলে মারমুখী অবস্থান গ্রহণ করে।
এসময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক কাজল মিয়া। সাথে দেখা গেছে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রমুখ।
অপর গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন মহানগর (উত্তর) যুবলীগের উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী রফিক। এ গ্রুপে কার্যনির্বাহী সদস্য কায়সার আহমেদ বেনু, নাজমুল হোসেন আরিফ, শিল্পাঞ্চল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইয়াসিম সুমন।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গ্রুপের নেতাকর্মীরা জোর করে রফিক গ্রুপের একটি টেন্ডারপত্র ছিনিয়ে নেয়। রবিউল এন্টারপ্রাইজের নামে ছিনিয়ে নেয়া ওই টেন্ডারপত্রটি ছিঁড়ে ফেলে তারা। তবে রফিক গ্রুপ নাজমা ট্রেডার্স ও স্বদেশ এন্টারপ্রাইজের নামে অপর দু’টি টেন্ডার পত্র জমা দিতে পেরেছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
রফিক গ্রুপের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেছেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অন্যায়ভাবে আমাদের রাজনীতি ও সামাজিক কার্যক্রমের উপর হস্তক্ষেপ করছেন।
তিনি তার ছেলেকে দিয়ে বিজি প্রেসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে আমরা কোনো টেন্ডারপত্র জমা দিতে গেলেই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে।’
মালেক ও জুয়েল নামে পুলিশের দুই এএসআই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিপক্ষ গ্রুপকে চলে যাওয়ার পাশাপাশি হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছে রফিক গ্রুপের সদস্যরা।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে টেন্ডার জমা দেয়ার সময় শেষ হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গ্রুপের সদস্যরা বিজি প্রেসের ভেতরে ও ছাদে অবস্থান নেয়। বিকেল ৩টায় এ টেন্ডার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
পুলিশের বাধা দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করছে। কাউকে কোনো হুমকি দেয়নি।
টেন্ডার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। কোনো বিষয়ে জানার থাকলে সরাসরি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর লোকদের সাথে কথা বলার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
[b]ঢাকা,  জেইউ, ২৭ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর // এসআর[/b]