[b]ঢাকা:[/b] একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মাওলানা একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ১৯তম সাক্ষী আব্দুল লতিফের জেরা শেষ।
বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে সাক্ষীকে জেরা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী আব্দুল লতিফকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। তাকে সহায়তা করেন আসামীপক্ষের কনিষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী এইমএম তামীম।
জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবী করেন ট্রাইব্যুনাল।  
গত  বছরের ১ আগস্ট মাওলানা ইফসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। গত ৬ মে তার পক্ষে করা জামিন আবেদন খারিজ করেছেন।
গত বছরের ১২ মে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ধানমন্ডির বাসা থেকে জামায়াতের এই নেতাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত বছরের ৮ মে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর রাষ্ট্রপক্ষে কৌসুলি অ্যাডভোকেট হৃষিকেশ সাহা ১৫ টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে।
গত বছরের ২২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে তদন্তের চুড়ান্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষ বরবার জমা দেন তদন্ত সংস্থা।
একাত্তরে ৭শ জনকে গণহত্যা, ৮ জনকে হত্যা, ২শ হিন্দু লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করাসহ ৩শ বাড়ী লুন্ঠন এবং ৪শ দোকান লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করার অপরাধ আনা হয়েছে।
একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জে) মূল ৮৫পৃষ্ঠার ১৫ টি অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয় ।
তদন্ত সূত্রে জানা যায় একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি তদন্ত শুরু করে গত ২১ এপ্রিল শেষ করে।
গত বছরের  ২৩ জুন একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি প্রথম ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশে পাকিস্তানিদের গঠন করা কথিত মালেক সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ইউসুফ এক সময় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন।