রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সেই ইন্টার্নি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শেষের সনদ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। শনিবার ২০/২২ জন শিক্ষানবিস চিকিৎসক বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশ নিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে এফসিপিএস পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য সনদপত্রের আবেদন করেন। গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সাংবাদিক পেটানো ও চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানানোসহ নানা কারণে এ ব্যাচের শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
এদিকে, সাংবাদিককে চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানানোর বিষয়ে হাই কোর্টের রুলের প্রেক্ষিতে শনিবার একটি তদন্ত কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক ডা. একরামুল বারীকে সভাপতি ও উপ-পরিচালক আ স ম বরকতউল্লাহকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটিকে আগামী ১৩ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ ও ডা. মাহাবুর রহমান খান বাদশা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, সাংবাদিককে চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানানোর বিষয়ে হাই কোটের্র রুলের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি এবং গত ২০ এপ্রিল সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের সনদপত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর আগে কাউকে সনদপত্র দেয়া হবে না বলেও জানান নাসির উদ্দিন।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল রামেক হাসপাতালে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে অন্তত ৭ সাংবাদিক আহত হন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুরসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন সাংবাদিকরা।
এ ঘটনার পরে গত মঙ্গলবার রাজশাহী থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার আহত ফটোসাংবাদিক গুলবার আলী জুয়েলকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে না বলে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘোষণা দেন।
এতে বাধ্য হয়ে তিনি হাসাপাতাল ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক জুলফিকার আলী রাজশাহীতে এসে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে জুয়েলের পায়ে অস্ত্রোপাচার করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সাংবাদিককে চিকিৎসা না দেওয়ার ঘটনায় রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই রুল জারি করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের চিকিৎসক হিসেবে লাইসেন্স প্রদানে বিরত রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না? তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
[b]ঢাকা, ১১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এএইচ[/b]