[b]ঢাকা:[/b] ১০ম সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
আজ (শনিবার) বেলা ১২টার দিকে  তিনি শপথ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার কক্ষেই শপথ পড়ান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানকে। এরপর তিনি সংসদ সচিবের কক্ষে শপথনামায় স্বাক্ষর করেন।
সোয়া ১২টার দিকে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান এরশাদ, কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি কথা বলেননি।
[b]যেভাবে শপথ নিলেন এরশাদ:[/b]
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সংসদ ভবনে ঢোকেন গণভবনের বিপরীত দিকের প্রবেশ পথ দিয়ে, যেদিক দিয়ে সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ উপনেতা ঢোকেন। তিনি ওই পথেই বেরিয়ে যান।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না আসলে নির্বাচনে যাবে না জাতীয় পার্টি-এমন বক্তব্য দিয়ে আলোচনার ঝড় তোলা এরশাদকে স্যুটপরা অবস্থায় স্পিকারের কক্ষে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি কক্ষে ঢুকেই শিরীন শারমিনকে সালাম দেন।
এরশাদের শপথের সময় স্পিকারের কক্ষের আশপাশে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের ঢোকার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389422819.jpg[/img]
এদিকে গত বৃহস্পতিবার অনুপস্থিত আওয়ামী লীগের নাজমুল হাসান এবং জাতীয় পার্টির নাসিম ওসমান শপথ নিতে সংসদে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের শপথ হবে সংসদের শপথ কক্ষে।
রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের ছেলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম নির্বাচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে।
দেশের বাইরে থাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের নির্ধারিত দিন ৯ জানুয়ারি অনুপস্থিত ছিলেন তারা। এরশাদ ছিলেন সিএমএইচে।
একই কারণে এখনো শপথ নেননি ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে নির্বাচিত জাসদের মঈনুদ্দিন খান বাদল।
[b]সকাল থেকেই শপথের গুঞ্জন:[/b]
এর আগে সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিল শনিবার যেকোন সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শপথ নিতে পারেন। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানিয়েছিল শপথ নেয়ার বিষয়ে এরশাদের প্রস্তুতির কথা।
সূত্রটি জানিয়েছিল, শনিবার দিনের যে কোন সময় তিনি শপথ নিতে পারেন।
এরআগে, বৃহস্পতিবার দশম সংসদের বিজয়ী এমপিরা শপথ নেন। ঐদিন এরশাদসহ পাঁচজন শপথ নিতে পারেননি।
নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে রাখা হয়। অন্য চারজন বিদেশে অবস্থান করছেন। জাতীয় পার্টির এমপিরা শপথ নেয়ার পর রওশন এরশাদকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পর গুঞ্জন ছিল এরশাদ আর শপথ নাও নিতে পারেন। তবে সরকার চেষ্টা করে তাকে শপথ পড়ানোর।
এদিকে, দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, এরশাদ শপথ নেয়ায় এখন তাকে বাসায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হতে পারে। তখন তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারবেন। তবে, শেষমেষ এরশাদ ঘরে ফিরে কখন গণমাধ্যমের সাথে কথা বলবেন এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কেউই স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না।
[b]১০ম সংসদে জাতীয় পার্টির অবস্থান:[/b]
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এরশাদপত্নী রওশনের নেতৃত্বে জাপার একাংশ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে অংশ নেয়। তাতে এরশাদসহ ১৩ জন জয়ী হন। এর আগে রওশনসহ দলটির ২০ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতানো হয়। সব মিলিয়ে ১০ম সংসদে মোট ৩৩ জন সংসদ সদস্য রয়েছে জাতীয় পার্টি থেকে।
[b]সব মিলিয়ে ১০ম সংসদ:[/b]
গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ২২৬, জাতীয় পার্টির ৩১, ওয়ার্কার্স পার্টির ৬, জাসদের চার, জাতীয় পার্টি (জেপি), বিএনএফ ও তরীকত ফেডারেশনের একজন করে এবং স্বতন্ত্র ১৪ জনসহ মোট ২৮৪ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন।
ওই দিন জাতীয় পার্টির ৩৩ সদস্যের মধ্যে এরশাদসহ দুজন শপথ নেননি। শপথের পরই জাপার সংসদ সদস্যরা রওশন এরশাদকে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করেন।
নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যায় র‌্যাব। এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর হিসেব নিকেশ কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।