নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনায় র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কাছে ৭ পরিবার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিহতদের পরিবারের এ সাক্ষ্য নেয়া হয়। সাংবাদিকদের কাছে তদন্ত কমিটির সদস্য আবুল কাশেম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এ তথ্য জানান।
এরআগে বৃহস্পতিবার শাহাজান আলী মোল্লার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা নারায়ণগঞ্জে ঘটনাস্থল ও লাশ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন করেন।
সাক্ষ্য শেষে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে সেই সকল ঘটনার বিবরণ তদন্ত কমিটির কাছে বলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’
এ ব্যাপারে দ্রুত নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার আশ্বাস দেন তদন্ত কমিটি।
নূর হোসেনই নজরুলের খুনী বলে দাবি করেছেন নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। নূর হোসেনের বাড়ি থেকে রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার হয়েছে। চন্দন শীল (চন্দন সরকার) এর মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। র‌্যাব অফিসের সামনে থাকা ইট, লাশের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্যাগ, রশিই প্রমাণ করে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত।
চাকরি থেকে বহিষ্কার হওয়া র‌্যাবের ৩ কর্মকর্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটি সংস্থার লোক তারই সংস্থার অন্য কোন সদস্যের বিরুদ্ধে বিচার করতে পারে না।’ তাদের বিচারের জন্য র‌্যাবের ওই ৩ কর্মকর্তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার দাবি জানান তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত। আমাকে যে কোন সময় সন্ত্রাসী, বড় কোনো রাজনৈতিক নেতা, জামায়াতে ইসলামী, অথবা বামদলের লোকজন আমাকে হত্যা করতে পারে।’
হত্যাকাণ্ডের শিকার অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ে ডা. সুস্মিতা সরকার সাক্ষ্য প্রদান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাউকে সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না। যেহেতু বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তাই আমরা নিজেরাই রহস্যের মধ্যে আছি। দ্রুত এই রহস্যের উম্মোচন হোক।’
নিহত জাহাঙ্গীরের ৮ মাসের অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী সামসুন্নাহার নুপুর বলেন, ‘জাহাঙ্গীর মরে যাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে আমাকে বলেছিল কারা যেনো মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। স্বপন ভাইয়ের গাড়ি চালালে মরে যেতে পারি। এপ্রিল মাসের বেতন পেলে গাড়ি চালানো ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল সেটাই তদন্তকারী কমিটিকে জানিয়েছি।’
অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়ি চালক ইব্রাহিমের স্ত্রী অনুফা বেগম জানান, তার কোনো শত্রু ছিল না। এর বেশি আমি আর কিছুই বলতে পারব না।
আদালতের নির্দেশে বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, বিচার বিভাগ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
[b]ঢাকা, ১০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]