বেনাপোলে বহুল আলোচিত সোনা আত্মসাতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছে। এতে সোনা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত বেনাপোল পোর্ট থানার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ওসি কাইয়ুমকে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তাকেসহ ইতোপূর্বে ক্লোজ করা এএসআই রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আটক পাচারকারীর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি,ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অধস্তনদের দেওয়া সাক্ষ্য,প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ দেওয়ার পরও পোর্ট থানায় বহাল থেকে বিতর্কিত ওসি ছড়ি ঘুরিয়ে চলেছেন। দিনের আলোর মতো সত্য ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ওসি তদবিরের পর তদবির করে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যে কারণে, কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের ‘নায়ক’ ওসি কাইয়ূম ও এএসআই রফিকের খুটির জোর কত সে প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দেয়। সোনা আটক অভিযানে অংশ নেওয়া সকল এএসআই ও পুলিশ কনস্টেবল, ঘটনার দিনের ডিউটি অফিসার, সেন্ট্রি, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত কর্মকর্তাসহ মামলায় ওসির অনুসারী সাক্ষীরা তদন্ত কর্তাদের যাবতীয় তথ্য দিলেও সোনা লোপাটকারীদের কাছ থেকে কোনো সোনার বার উদ্ধার করা যায়নি।
এদিকে, অভিযুক্ত ওসি কাইয়ুমকে স্বপদে বহাল রেখে তদন্ত করায় অনেক সত্যই ঢাকা পড়ে গেছে ক্ষমতা আর দাপটের কাছে। এমনকি যারা ওসির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই বিনা অপরাধে কখন অপরাধী হয়ে চাকরি হারাতে হয় সে ভয়ই পোর্ট থানায় কর্মরত সাক্ষীদের গ্রাস করে।
এ ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল হকের নেতৃত্বে গঠিত হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন, সহকারী পুলিশ সুপার-খ সার্কেল সৈয়দ মোস্তফা কামাল ও যশোর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মনিরুজ্জামান। তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা সোনা লোপাটের হোতা ওসি কাইয়ুম ও এএসআই রফিকসহ আরো দু’জন এসআই, চারজন এএসআই, সাতজন কনস্টেবলসহ মামলার চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছেন তারা। যার মধ্যে বিতর্কিত ওসি ছাড়া বাকিরা সোনা লোপাটের গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য ডিবির ওসি মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তদন্তে যেমনটি পাওয়া গেছে সেভাবেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত জানতে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তদন্ত টিমের অন্য সদস্য সহকারী পুলিশ সুপার-খ সার্কেল সৈয়দ মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওসিকে প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।
[b]যশোর, ২৯ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এফএ[/b]