[b]ঢাকা: [/b]বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনকে অবরুদ্ধ রেখে সরকার চরম ফ্যাসিবাদ ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, অবিলম্বে তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিরোধী জোটের ডাকা অনির্দিষ্ট কালের অবরোধের প্রথম দিন বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজও সরকার সারা দেশে যৌথবাহিনী দিয়ে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়ি-বাড়ি হামলা চালাচ্ছে এবং গণগ্রেফতার করছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে ও আহত করছে। এভাবে যৌথবাহিনী দিয়ে নেতাকর্মীদের হত্যা ও গণগ্রেফতার করে আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।
ভোট নেই, খালি মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এমন অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, গতকাল রংপুরের পীরগঞ্জে গেছেন। আজ ঢাকায় নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী একতরফা নির্বাচনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দেশের মানুষের কাছে এটা গ্রহণ যোগ্য নয়। কারণ ৫ জানুয়ারির ভোট দেশের জনগণ মানে না। দেশ-বিদেশের কেউই নির্বাচন গ্রহণ যোগ্যতা দেবে না।
স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে জাতি বর্তমানে চরম ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পুরো প্রশাসনযন্ত্র এক ব্যক্তির হাতে বন্দী হয়ে দেশে খামখেয়ালীপনার শাসন চলার কারণেই দেশ ক্রমান্বয়ে নৈরাজ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে পাশ কাটিয়ে প্রকারান্তরে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সরকারের আচরণের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের চিরাচরিত নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী চরিত্রই হচ্ছে গণহত্যা, গুম, গণগ্রেফতার, হামলা মামলা ও নির্যাতন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদলীয় কর্তৃত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলেই বিরোধী দল দমনে হিংস্র হয়ে উঠেছে।
এই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনদিনই সুরক্ষিত ছিল না। বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে তারা ভয় পায়। বিরোধী দল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকারের দমন-পীড়ণের ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে সাংবাদিক সম্মেলন করার পরপরই নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ বাকশালী শাসনের কুৎসিত প্রতিচ্ছবি।
তিনি সারাদেশে যৌথবাহিনীর অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারের নির্দেশে এসব বাহিনীর মাধ্যমে বিরামহীন নির্যাতন চলছে। চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, বরিশাল, সাতক্ষীরা, খুলনা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নীলফামারী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ দেশব্যাপী হত্যা, গ্রেফতার, বাড়ীঘর গুঁড়িয়ে দেয়া, আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাটের মহোৎসব চলছে।
তিনি বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই তথাকথিত সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ৭১ এর মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া দল। এই দল রনাঙ্গনে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা গঠিত দল। কাজেই মুক্তিযোদ্ধা চেতনার দোহাই দিয়ে গণতন্ত্রবিনাশী এই বাকশালী শাসন এদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।





