ময়মনসিংহে তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। এদের মধ্যে দুইজন হচ্ছে জঙ্গি ছিনতাই ঘটনায় অর্থের যোগানদাতা।
রাজধানী ও পাশ্ববর্তী জেলায় টানা অভিযান চালিয়ে এই ১১ জন কে গ্রেফতার করা হয় বেলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতারকালে উদ্ধার করা হয়েছে বিস্ফোরকদ্রব্য, বিস্ফোরকের উপকরণ, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র।
শনিবার পৌনে ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নুরুজ্জামান।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার মনিরুজ্জামান, অতিরিক্তি ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম-এর তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ)  মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন-এর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
শনিবার সকাল ৬টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন-এর তত্ত্ববধানে এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালায়।
এর আগে গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য জিতুর তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা থেকে রুহুল আমীন ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাই ঘটনার অন্যতম কর্মী হচ্ছে রাজু।
অপরদিকে গোয়েন্দা পুলিশের একই দল রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে ত্রিশালের তিন জঙ্গি ছিনতাই ঘটনায় জড়িত অন্যতম জেএমবি সদস্য আল আমীন, রাহাত, আজমীর ও জিতুকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত গাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয় নয় রাউন্ড গুলি, বেশকিছু বিস্ফোরক, বোমা তৈরীর সরঞ্জাম, বোমা বানানোর ম্যানুয়াল, জঙ্গি অর্থায়নের হিসাব, বিভিন্ন সিকিউরিটি ব্রেকিং প্ল্যান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মানচিত্র।
এর আগে জঙ্গি ছিনতাই ঘটনার সাথে জড়িত জেএমবির দুই সদস্য মো. জাকারিয়া ওরফে হিমেল ও মো. রাসেলকে ছয় রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, পাঁচটি আইইডি বোমা, দুইটি প্লাস, একটি বড় লোহা কাটার এবং নগদ সাড়ে ১২ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। জাকারিয়ার স্ত্রী সামছুন্নাহার খাতুন ওরফে স্বপ্না এবং জাকারিয়ার ভাই মো. ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহ ও জামালপুর থেকে রাজু আজমেদ ওরফে রাজু ও সোহরাব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
জেএমবির গ্রেফতারকৃতরা ৮ মাস আগে কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, গাজীপুর এলাকায় একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গি ছিনতাই করার জন্য সুবিধাজনক একটি স্থান খুঁজতে থাকে। কিন্তু তারা নির্ভরযোগ্য কোন স্থান না পাওয়ায় গত ৫ মাস আগে অপরাধ সংঘটনস্থল পরিবর্তন করে ভালুকা-ত্রিশাল এলাকা বেছে নেয়।
এসব জঙ্গি সদস্যরা ভালুকা-ত্রিশাল এলাকায় পরিকল্পনা মাফিক একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে দির্ঘদিন যাবত অবস্থান গ্রহন করতে থাকে। কেউ কেউ সপরিবারে সেখানে অবস্থান করে। এসময় তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিস্ফোরক, বোমা তৈরীর নানা সরঞ্জাম, কাটার, অস্ত্র-গুলি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভিন্ন যানবাহন প্রভৃতি জিনিস পত্র সংগ্রহ এবং মওজুদ করে। এদিকে গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জিনিস উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ জেলায় পাঁচটি, টাঙ্গাইল জেলায় চারটি এবং ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার তেকে প্রিজনভ্যানে তিন জঙ্গিকে ময়মনসিংহ আদালতে অন্য মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলি ও বোমা ফাটিয়ে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় হামলাকারী জঙ্গিরা। তিন জঙ্গি ছিল মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাসেল, সালাউদ্দিন সালেহীন ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত বোমারু মিজান। ঘটনার দিনই বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে পুলিশের চেকপোস্টে রাকিব হাসান ধরা পড়ে। রাতে তাকে নিয়ে পুলিশ অভিযানে বের হলে বন্দুকযুদ্ধে রাকিব নিহত হয়।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএইচ[/b]