[b]ঢাকা:[/b] ক্ষমতা স্থায়ী রাখার পথে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দল যাতে নতুন করে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ৪ ট্রাম্প কার্ড হাতে নিয়েছে।
এগুলো হচ্ছে-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ এগিয়ে নেয়া, জঙ্গীবাদ ইস্যূ, সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারীদের বিচার এবং বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক মামলা দিয়ে আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনে ব্যর্থতা আর কূটনৈতিক তৎপরতার উপর নির্ভরতার কারণে বিএনপি-জামায়াতকে এতোটা কোনঠাসা করার সুযোগ পেয়েছে সরকার।
তবে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র দাবি, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সরকার মরিয়া হযে উঠেছে। এ জন্য সরকার গণতন্ত্র আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে। যখন যেটার প্রয়োজন তখন সেটা ব্যবহার করছে। কিন্ত সব অন্যায় তো আর তাবিজে জায়েজ হয়ে যাবে না।
তবে এই মূহুর্তে বিএনপি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সঙ্কট কাটিয়ে একটি অবাধ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পক্ষে।
বিএনপি’র হাই কমান্ড সূত্রে জানা গেছে, সরকার যদি আলোচনার পরিবেশ তৈরি না করে সেক্ষেত্রে আবারো জোরোলো আন্দোলনের পথেই হাঁটবে বিরোধী জোট।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ‘পাতানো নির্বাচনের’ বৈধতা পেতে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদ আর সংখ্যালঘু নির্যাতন কার্ড ছেড়েছে। এ দুই কার্ড দুটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আনুকূল্য নিয়ে নতুন সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায় দলটি।
অন্যদিকে ভারতকে আরও কাছে পেতে ও সহযোগিতা নিতে সংখ্যালঘু ইস্যূটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ সরকার। কারণ ভারত হিন্দু ধর্মাবলম্বী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করবে। এ জন্য বিরোধী দলের আন্দোলনের সময় সংঘঠিত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নির্যাতনের বিষয়টি সরকার জোরালোভাবে প্রচারের চেষ্টা করছে।
এ লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ ও সরকারের আজ্ঞাবহ বেশ কিছু মিডিয়া। তারা বিশ্ব সম্প্রদায়কে বোঝাতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটবে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত বাড়বে। এই দুই ইস্যুর কারণেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা উচিত।
আওয়ামী লীগের এই কৌশল আন্তর্জাতিক মহলে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা সময়সাপেক্ষ হলেও ইতোমধ্যে বিরোধীদলবিহীন নির্বাচনে ভারতের সমর্থন, নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন ও জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে মাথাব্যথাই বলে দেয় ভারতের ভূমিকার কথা। এতে বোঝা যাচ্ছে ভারত আওয়ামী লীগের পাশেই থাকছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ভারত এখন মূল শক্তি। এই শক্তি কাছে থাকলে বিরোধী জোটের আন্দোলনকে যেকোনো ইস্যূতে মোকাবেলা করা সহজ হবে বলে মনে করছে আওযামী লীগ।
প্রার্থীবিহীন ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ২৩১ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর বিশ্ব সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের জোরালো সমালোচনা করছে।
বিরোধীদলবিহীন নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করে সব দলের অংশগ্রহণে কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
তবে সমালোচনায় মুখর থাকলেও সম্প্রতি কয়েকটি দেশের আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কূটনৈতিক সফলতার বিষয়টি কিছুটা হলেও প্রমানিত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান সমন্বয়কের কাজ করছে মূলত ভারত।
অন্যদিকে বিএনপি চীনকে বন্ধুপ্রতীম দেশ ভাবলেও সম্প্রতি চীনও আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে দিল্লীর সর্বাত্মক চেষ্টা আপাতত সফলও বটে।
তবে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এখনো বিরোধীদলবিহীন নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করে নতুন এই সরকারের উপর নারাজি থাকার ঘটনা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।
এই বিব্রতকর অবস্থা উত্তরণের জন্য সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও সংখ্যালঘু ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপের কারণে ও নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি বিরোধী জোটের সাথে আলোচনাও চলবে। এমন কথাও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার শর্ত দেয়া হয়েছে।
জামায়াতকে জঙ্গী সংগঠন হিসেবে পরিচিত করতে এবং সম্প্রতি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলেছে সরকারী দল আওয়ামী লীগ। এজন্য আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী ও কূটনীতিকগণ দিল্লীর সুরে গীত গাইছেন।
সূত্র জানায়, জঙ্গিবাদ ইস্যু আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে দীর্ঘদিন থেকে। ১৯৯১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরের সময় সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি পুস্তিকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। সে পুস্তিকায় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরা হয়। তখন থেকেই দলটি জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এমনকি বিগত বিএনপি সরকারের শাসনামলে কমনওয়েলথের মহাসচিব পদে বাংলাদেশ প্রার্থী দেয়ার পরও এই ইস্যুকে পুঁজি করে সদস্য দেশগুলো যাতে বাংলাদেশকে ভোট না দেয় সে জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে লবিং করা হয়। কমনওয়েলথ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থীকে পরাজিত করতে বিদেশে লবিষ্ট পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়েছিল। আর যখনই রাজনৈতিক সংকটে পড়ে তখনই দলটি জঙ্গিবাদের ধোঁয়া তুলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আর্কষণ করার কৌশল গ্রহণ করে।
সম্প্রতি বিরোধীদলবিহীন একদলীয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দেশবাসী ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অগ্রগণযোগ্য হওয়ায় চরম বিপাকে সরকার।
তাই বিতর্কিত নির্বাচন থেকে দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
ভোটারবিহীন নির্বাচন নিয়ে দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক চাপা দিতেই মূলত এ ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হয়। সরকারের এ চালাকি বাস্তবায়নে সক্রিয় আজ্ঞাবহ মিডিয়াগুলো। কিন্ত বিধি বাম। আন্দোলনরত দলগুলো সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে ইস্যূগুলো কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আওয়ামী লীগ যা মনে করেছিল ইতোমধ্যে তা হয়ে গেছে হিতে বিপরীত।
সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিচার না হওয়া এবং শুধু বিরোধী দল বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে দোষ চাপানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় আওয়ামী লীগ; নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা পর্যন্ত চালানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। মানবাধিকার কমিশন, কিছু প্রিন্ট মিডিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং ভুক্তভোগীরা প্রকৃত অপরাধীদের নাম প্রকাশ করায় বুমেরাং হওয়ার পথে সরকারের সংখ্যালঘু ইস্যু।
তাছাড়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর রহস্যজনক আচরণে বিষয়টি জনগণের কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যুর মতোই জঙ্গিবাদ ইস্যুকে আবারো সামনে নিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। আর এর সাথে থাকছে যুদ্ধাপরাধের ইস্যূ।
অন্যদিকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় শত শত বাড়িঘর ও হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার সুযোগে সরকার একপাক্ষিক মামলার বেড়াজালে জড়াতে চাচ্ছে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে।
সরকার বিরোধী জোটের নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী থেকে জনগনের দৃষ্টি স্বার্থকভাবে ঘুরাতে মামলার ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে সারাদেশে। ইতোমধ্যে শুধু নির্বাচনী সহিংসতার জেরে বিশ হাজারেরও বেশি মামলা হয়েছে সারাদেশে। এসব মামলায় নামে বেনামে কমপক্ষে অর্ধকোটি বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে করা হয়েছে আসামী।
তবে খালেদা জিয়া ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে গত মঙ্গলবার রাতে বৈঠকে বসেন। সূত্রে জানা গেছে, আপাতত আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় যেতে চাচ্ছেন তারা। তবে আলোচনার স্বার্থে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের জেল থেকে মুক্তির বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে সরকার যদি আলোচনার পথে না হেঁটে টালবহানা করে, তবে সর্বাত্মক জোরালো আন্দোলনে যাবে বিরোধী জোট।
এব্যাপারে ১৮ দলীয় জোটের আরেক শরিকদল জাগপা’র শফিউল আলম প্রধান টাইম নিউজকে বলেন, আমি মনে করি আলাচনা চলবে। তবে সরকারের আচরণে তো আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সামধানের কোনো ইঙ্গিত দেখছি না। সেক্ষেত্রে তো আন্দোলন করতেই হবে।
১৮ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মনে করেন, আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তবে সরকার যদি আলোচনার পথে হাঁটে তবে ভালো। সরকার যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে তা পৃথিবরি ইতিহাসে নজীরবিহীন।
ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মবিন বলেন, আগামীকাল বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন এবং জোট নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করবেন। পাশাপাশি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জোটের পর্যবেক্ষণও তুলে ধরবেন তিনি।
এনডিপি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা বলেন, আমরা জোটবদ্ধভাবে আন্দোলনে যাবো। তবে সামনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত হবে।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
বিরোধী জোটকে ঠেকাতে সরকারের হাতে ৪ ট্রাম্প কার্ড
ঢাকা: ক্ষমতা স্থায়ী রাখার পথে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দল যাতে নতুন করে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ৪ ট্রাম্প কার্ড হাতে নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে





