দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে ১৪টি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর  নতুন ভোটারদের  তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এসব এলাকার বিশেষ ফরম তৈরি করা হয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমার ও ভারতসহ দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে ভোটার নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত ১৪টি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর হালনাগাদে অন্তর্ভুক্তের  নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিদেশীরাসহ রোহিঙ্গা ভোটার করা নিয়ে অভিযোগ থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে  ইসি। আর এ লক্ষ্যেই এসব এলাকার জন্য বিশেষ ফরম তৈরি করা হয়।
এ বিশেষ ফরমে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, দাদার নাম,   কত বছর  অত্র এলাকায় স্থায়ী বাস করছে, সনাক্তকারীর নাম, চাচার নাম, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংরক্ষিত (মহিলা ) মেম্বার সনাক্ত করাসহ মোট ১৪টি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে বলা হয়েছে।  
তিন দফায় দেশের ৫১৪ টি উপজেলায়  ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। মিয়ানমার ও ভারতসহ দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে চলতি মাসের ১৫ মে থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রথম দফায় ১৮২ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে, যা আগামী ২৪ মে পর্যন্ত এ হালনাগাদ চলবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ২১৯ উপজেলায় এবং শেষ ধাপে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৩ উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদকে সামনে রেখে একটি কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে। কার্যপত্র অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদে ( প্রথশম দফা ১৫ মে ২০১৪)  বাংলাদেশে বসবাস করে কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক নয়, বিভিন্ন দেশ থেকে ভ্রমনে এসেছে, মিয়ানমারের নাগরিক ও রোহিঙ্গারা এবং ভারতের সীমান্তবর্তী   ৩০ উপজেলাকে বিশেষ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  
এছাড়াও বিশেষ অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে- কক্সবাজারের সদর উপজেলা, চকরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও মহেশখালী, বান্দরবানের সদর উপজেলা, আলিকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি, রাঙামাটির বিলাইছড়ি এবং কাপ্তাই উপজেলা। এছাড়া বেনাপোল, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঢাকা, বাগেরহাট এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলাকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার বিগত হালনাগাদের নিবন্ধিত ভোটারদেরও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  
এছাড়া বিশেষ কমিটি গঠন করে এসব এলাকায় ইসির নির্দেশে তৈরি  বিশেষ ফরম এলাকার ভোটারদের পূরণ করানো হবে এবং এজন্য যুক্তি হিসেবে মূলত বলা হচ্ছে যে বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদে (২০০৯ সালে)  সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপজেলার ৫০ হাজার রোহিঙ্গা ভোটারকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে এদের মধ্য থেকে প্রায় ৪২ হাজার রোহিঙ্গা ভোটারের নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে ১৪ টি তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর ভোটার তালিকাভুক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে করে  বিদেশীরা  ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হতে না পারে। আর এ জন্য  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি [/b]