রাজধানীর রামপুরা থানা হেফাজতে খোয়া যাওয়া সোনার বার অবশেষে পুলিশের কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে খোয়া যাওয়া ১৪৯ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল আলম, দুই কনস্টেবল ওয়াহিদ ও আকাশ। আরেকজন পুলিশের সোর্স রানা।
সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রানার স্ত্রী এবং গাড়ি চালককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার(গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সোমবার সকালে রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী এবং কনস্টেবল ওয়াহিদুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, গাড়িতে থাকা ১৬৫ পিস সোনার বার তারা নিজেরাই আত্মসাত করেছিলেন।
পরে সেই সোনার বার উদ্ধারে শুরু হয় অভিযান। রাতভর অভিযানে ১৬৫ পিস সোনার বারের মধ্যে ১৪৯ পিস উদ্ধার করা হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার(গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম।
গত ১৩ মার্চ বনশ্রী এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে সোনার বার নিয়ে শাখারীবাজারে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। বনশ্রী এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি দেখে সামনে থাকা মাইক্রোবাস দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বনশ্রী এলাকার একটি গলিতে প্রবেশ করে মাইক্রোবাস থেকে নেমে দুইজন দৌড়ে পালাতে গেলে তাদেরকে আটক করা হয়। এরা হলো সমীর ও মুহিন।
ঘটনার তিন দিন পর কর্তব্যরত পুলিশ রামপুরা থানায় ৭০টি সোনার বার উদ্ধার দেখিয়ে চোরাচালান মামলা দায়ের করে। আসামি করা হয় মাইক্রোবাস আরোহী সমীর ও মুহিনকে। তাদেরকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর তারা জানায় সোনার বার ৭০টি নয়, আরও বেশি ছিল।
এরপর ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক তিনটি দল একযোগে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান পারিচালনা করে ৪ জনকে ১৪৯টি সোনার বারসহ গ্রেফতার করে।
অভিযোগ ওই গাড়িতে ২৩৫ পিস সোনার বার ছিল। যার মধ্যে ৭০ পিস উদ্ধার দেখিয়ে বাকিগুলো পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে থানার দুই ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও নাসিম আহমেদ এবং সাব ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুলকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গত ২০ মার্চ রামপুরা থানা থেকে উদ্ধার করা ৭০ পিস সোনার বার মহানগর গোয়েন্দা অফিসে নিয়ে আসা হয়।  ২৫ মার্চ সোনার বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
পরে ঘটনার তদন্তে বাকি ১৬৫ পিস সোনার বার সাব ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
[b]ঢাকা, জেইউ// ০১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// জেআই[/b]