[b]ঢাকা:[/b] রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্রমেই অধোগতিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। এতে বিপর্যয় নেমে এসেছে দেশের পর্যটন খাতে। বিদেশী পর্যটক আকর্ষণ প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। কান্ট্রি ব্র্যান্ড র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ১৬০তম স্থানে; ২০১২ সালের তুলনায় যা ১২ ধাপ পেছনে।
রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বাংলাদেশকে ভ্রমণের জন্য নিরাপদ মনে করছেন না বিদেশী পর্যটকরা। আর পর্যটক না পেয়ে মূলধন হারানোর শঙ্কায় রয়েছে খাতটি। এ শঙ্কা থেকে বিদেশীরাও এখন বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ পাচ্ছেন না। এসব বিবেচনায়ই কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।
পর্যটন খাতে বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় বিশ্বের ১৮৭টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে ‘কান্ট্রি ব্র্যান্ড র্যাংকিং-২০১৩’ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে স্পেনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্লুম কনসালটিং। সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যটনের বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৬০তম। আগের বছর এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৮তম। আর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ অবস্থান ৪৩তম।
১৮৭টি দেশের তালিকায় এবার প্রতিবেশী ভারতের অবস্থান ২৬, শ্রীলংকার ৮৩, মালদ্বীপের ৮৫, নেপালের ৯৭ ও পাকিস্তানের অবস্থান ১১৭তম।
পর্যটন খাতের ছয়টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো-বিনিয়োগে আকর্ষণ (বাণিজ্য), পর্যটন আকর্ষণ, মেধা আকর্ষণ, সুনাম বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি ও জনকূটনীতির উন্নয়ন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পর্যটন খাত বিকশিত হচ্ছে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তবে ২০১৩ সালজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে উদীয়মান পর্যটন খাতে হঠাৎ করেই বিপর্যয় নেমে আসে। পাশাপাশি রয়েছে ভালো হোটেল, দক্ষ ও মানসম্মত সেবা, বিদেশী পর্যটকের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য পরিকল্পনার অভাব।
এ প্রসঙ্গে প্যাসিফিক এশিয়া ট্র্যাভেল লিমিটেড (পিএটিএল) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব ও ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক তৌফিক রহমান বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ট্যুরিজম খাতের পাশাপাশি গোটা দেশকে নিয়েই নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) গঠন করে সরকার। তবে রাষ্ট্রীয় এ পর্যটন সংস্থা কেবল বিদেশের বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণেই তার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। ফলে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।
সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে বাংলাদেশে পর্যটনের পিক সিজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক সহিংসতায় বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হওয়ায় গত সেপ্টেম্বর থেকে বুকিং থাকা প্রায় সব বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশে ভ্রমণ এড়িয়ে গেছেন।
পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টদের আশা ছিল, নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণে আসবে। কিন্ত নির্বাচনের পরও ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ মনে করছে না বহির্বিশ্ব।
পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশকে তাই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্কবার্তা জারি করেছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, জাপান, ফ্রান্স, ইউক্রেনসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ সতর্কবার্তায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণ না করতে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে দেশগুলো। এতে এপ্রিল পর্যন্ত ট্যুরিস্টের প্রায় সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। ফলে ২০১৪ সালেও বাংলাদেশের এ খাত লোকসানের ধারা থেকে বেরোতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৮ জানুয়ারি জারি করা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন সহিংসতায় বাংলাদেশে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আগামীতে সারা দেশে বা বিশেষ কোনো এলাকায় সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি আসতে পারে। এসব কর্মসূচি চলাকালে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহন প্রায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। সবকিছু বিবেচনায় কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো। পাশাপাশি বাংলাদেশে বসবাসকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিকদেরও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতো চলাচল করতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে কানাডাও। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে হঠাৎ করেই দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। ভ্রমণের আগে তাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর নজর রাখতে হবে।
এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ভ্রমণ না করতেও নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি অপহরণের ঝুঁকি থাকায় এ পরামর্শ দিয়েছে দেশ দুটি।
প্রয়োজন ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয় (এফসিও)। গত রোববার জারি করা সতর্কবার্তায় তারা বলেছে, ভ্রমণসংক্রান্ত পরিকল্পনা ন্যূনতম ১০ দিন আগে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণকালে বাংলাদেশের গণমাধ্যম থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।
এফসিওর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতায় ২০১৩ সালে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এখনো প্রায় প্রতিদিনই রাস্তাঘাট বন্ধ থাকছে। এ সময় গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে দৈনন্দিন ভ্রমণেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
একইভাবে বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হংকং সিকিউরিটি ব্যুরো।
উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বে পর্যটন দ্রুত বর্ধনশীল ও লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এ খাতের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার। যদিও এতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অবদান মাত্র ১ শতাংশ। সার্কভুক্ত দেশগুলোর আয়ের ৫০-৬০ শতাংশ আবার ভারতের দখলে।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ, ভাবমূর্তি তলানিতে
ঢাকা: রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্রমেই অধোগতিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। এতে বিপর্যয় নেমে এসেছে দেশের পর্যটন খাতে। বিদেশী পর্যটক আকর্ষণ প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। কান্ট্রি ব্র্যান্ড র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ১৬০তম স্থানে; ২০১২ সালের তুলনায় যা ১২ ধাপ পেছনে।





