ফারহানা রানা অপূর্বের ছোট শরীরের মধ্যে ক্যান্সার বাসা বাধে সেই ২০১২ সালে। দীর্ঘ ৩ বছর রোগ থাকায় কোন আনন্দ উচ্ছাস ছিল না, ছিল না কোন ধরনের প্রাণ চাঞ্চল্য। নিয়তির টানে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যায় অপূর্ব।
দিনভর বিছানায় শুয়ে কিংবা বসে কাটাতে হতো। বার বার বলতো ‘মা আমি বাঁচতে চাই, বাবা আমাকে বাঁচাও প্লীজ। ছেলের এমন আকুতিতে পাগলের মত হয়ে উঠেছিল পরিবারের লোকজন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।
বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান মিন্টু চিকিৎসার কিছু টাকা জোগাড় করে। বাকি টাকা জোগাড় না করতে পারায় শেষতক চিকিৎসার অভাবেই সবাইকে কাঁদিয়ে অপূর্ব চলে গেছে না ফেরার দেশে। শোকে কাতর বানিয়েছে পুরো পরিবারকে।
গত বছর ভারতের বলিউড তারকা সালমান খানের সঙ্গেও দেখা হয়েছিল অপূর্বের। সালমান খান কোলে নিয়ে আদর করেছিল অপূর্বকে। সে গল্পই দেশে এসে করতো অপূর্ব ও তার পরিবারের লোকজন। শেষতক অপূবের্র হৃদ স্পন্দন বন্ধ হয়ে জীবনের গল্পের সমাপ্তি ঘটালো।
সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে নিজ বাসাতেই ৫ বছরের অপূর্ব মারা যায়। দুপুরেই দেওভোগ মাদ্রাসা কবরস্থানে চির দিনের জন্য শায়িত করা হয়। অশ্রুসিক্ত মানুষের চোখের পানি ঝরার মধ্য দিয়ে বিদায় দেয়া হয় এ ছোট্ট শিশুকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ পূর্বনগর এলাকার মাসুদুর রহমান মিন্টু ও শিখা আক্তার ঊর্মির একমাত্র সন্তান অপূর্ব ২ বছর বয়সে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে ২০১২ সালের জানুয়ারীতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার ঠাকুর পুকুর সরোজগুপ্ত ক্যান্সার হাসপাতালে। ওকে বাচাঁতে হলে বুনমেরু ট্রান্সপ্লানেট করানোর কথা জানান চিকিৎসকরা।
অপুর্বের পিতা মাসুদুর রহমান মিন্টু জানান, মেয়েটা আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছে বাবা আমি বাঁচতে চাই। প্লীজ আমাকে বাঁচাও বাবা। কিন্তু আমি একজন হতভাগ্য বাবা। ছেলেকে বাঁচাতে পারি নাই।
মা শিখা আক্তার ঊর্মির জানান, অপূর্ব তার চটপেট স্বভাব আর ব্যবহার দ্বারা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্যদের মন জয় করে নিয়েছে। ক্যান্সার যে ওকে তিলে তিলে নি:শ্বেস করে দিচ্ছে সম্প্রতি ওর কথা বার্তায় ও চালচলনে সেটা বুঝা যাচ্ছিল। শেষে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে ও।
অপূর্বর কথা বলতে গিয়ে মা ঊর্মি জানান, গত বছরেরর শেষের দিকে কলকাতায় চিকিৎসা নেয়ার সময়ই বলিউড তারকা সালমান খানের ভক্ত হয়ে ওঠে অপূর্ব। এক বছর আগে সালমানের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে সে। 'মেইক-এ-উইশ ফাউন্ডেশন' নামে একটি প্রতিষ্ঠান অপূর্বর এ ইচ্ছা পূরণের ব্যবস্থা করে। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সংগঠনটি অপূর্ব আর আমাকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ের বারসোভায়। অপূর্বর বাবাও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। সেখানে 'মেন্টাল' সিনেমার শুটিং করছিলেন সালমান। সেখানে শুধু চোখের দেখাই নয়, প্রিয় নায়কের সঙ্গে থেকে সিনেমার সেটে গুন্ডাদের সঙ্গে ফাইটও করেছে অপূর্ব।
সালমান অপূর্বকে কোলে নিয়ে আদর করেছেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেছেন যেন অপূর্ব সুস্থ হয়ে উঠে। সালমান খানের সাথে দেখা করার পর মানসিকভাবে কিছুদিন ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর বেজে উঠে বিদায়ের ঘণ্টা।
[b]ঢাকা, এএইচ// ২০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
শ্রেণীহীন
চিকিৎসার অভাবেই মারা গেল অপূর্ব
ফারহানা রানা অপূর্বের ছোট শরীরের মধ্যে ক্যান্সার বাসা বাধে সেই ২০১২ সালে। দীর্ঘ ৩ বছর রোগ থাকায় কোন আনন্দ উচ্ছাস ছিল না, ছিল না কোন ধরনের প্রাণ চাঞ্চল্য। নিয়তির টানে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে যায় অপূর্ব। দিনভর বিছানায় শুয়ে কিংবা বসে কাটাতে হতো।





