বাংলাদেশ সরকার এখন বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ৫২শতাংশই আমদানি নির্ভর কয়লাভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নির্ভর করেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বেশি। সেই খরচ কমানোর কথা বলা হলেও আমদানি নির্ভর কয়লা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হলে সেক্ষেত্রেও ব্যয় বেড়ে যাবে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল চার বছর আগে।
এই সরকারের গত পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ দশ হাজার মেগাওয়াটে এসে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। এখন সরকার দীর্ঘ মেয়াদে কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জোর দিচ্ছে।
জ্বালানী এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন,উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ৫২ শতাংশই হবে কয়লাভিত্তিক।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
তিনি বলেন, বড় কেন্দ্রের প্রতিটি হবে ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এগুলো হবে।
"এগুলোর ৫২ শতাংশই হবে আমদানি নির্ভর কয়লা ভিত্তিক। এই কয়লা আমদানির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী চুক্তি করা হবে," হামিদ বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন,ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়লা উৎপাদনকারী বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুধু দিনাজপুরে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তবে দিনাজপুরেই ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে বামপন্থী দলগুলো আন্দোলন করছে দীর্ঘ সময় ধরে।
“উন্মুক্তভাবে কয়লা উত্তোলনের যে সিদ্ধান্ত ছিল, আমরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি," প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন।
তিনি বলেন এখন কয়লার বড় ধরণের মজুদ আছে, সেই মজুদ দিয়ে জ্বালানী সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
"কিন্তু কৃষি জমি নষ্ট করে এই মুহূর্তে আমরা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে যাচ্ছি না। এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে দিচ্ছি," তিনি বলেন।
তবে আমদানি নির্ভর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে বলে বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন।
[b]বৈদেশিক মুদ্রা[/b]
এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার নামের একটি সাময়িকীর সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন মনে করেন, আমদানি নির্ভর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সরকারকে বড় অংকের ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।
তেল ভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় যে বেশি হচ্ছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রের কথা আসছে। কিন্তু কয়লা আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সেটা অর্জন সম্ভব হবে না বলে হোসেন মনে করেন।
"এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ছে সাড়ে ছয় টাকার মতো। সেই খরচ বেড়ে আট থেকে নয় টাকা পর্যন্ত হতে পারে," হোসেন বলেন।
"এই কয়লা আমদানির জন্য বড় অংকের যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে, সেই আর্থিক সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে কিনা, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে," তিনি বলেন।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ অবশ্য দাবি করেছেন, ব্যয় সামাল দেওয়ার যোগান সরকারের রয়েছে। সেখানে তিনি পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকার বিষয়কে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম)//ইএইচ[/b]