[b]ঢাকা: [/b]দেশব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষ আর সহিংসতার মধ্যেই প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই শেষ হলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে এ ভোটগ্রহণ।
ভোট শুরুর আগে থেকেই দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১১১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কে রোববার সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট শুরু হলেও অনেক কেন্দ্রে ভোটার যায়নি। বেশিরভাগ কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য।
নির্বাচন চলাকালে কমপক্ষে ১৪ জন নিহতের সংবাদ পাওয়া গেছে। রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে রংপুরের পীরগাছায় দুই জন, নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকায় একজন, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে একজন, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একজন, দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে তিনজন এবং ফেনীর সোনাগাজীতে দু’জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন আনসারের প্লাটুন কমান্ডার বলে জানা গেছে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে ভোটকেন্দ্রে ককটেল ছুঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন একজন।
শনিবার গভীর রাতে ডিমলা ও টঙ্গীবাড়িতে, রোববার ভোররাতে পীরগাছায়, সকাল আটটা ও দুপুর সাড়ে বারোটায় পাবর্তীপুরে, সকাল দশটায় জলঢাকায়, সকাল সাড়ে দশটায় সোনাগাজীতে, দুপুর সাড়ে বারোটায় রামগঞ্জে এবং দুপুর সোয়া দুইটায় ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি জামায়াত সহ ১৮ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পৃথক পৃথক সংঘর্ষে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮হাজার ২০৮টি। এর মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে অবশ্য কিছু কেন্দ্রে ভোট আবার শুরু হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৫৯ জেলার নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, র্যা ব, আনসার, বিজিবিসহ সশস্ত্রবাহিনীর সতর্ক অবস্থান ছিল লক্ষ্য করার মতো। প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচনের ভোটের হার বাড়াতে ছিল ইসির প্রচারণা।
এবারের নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রাথী নির্বাচিত হওয়ায় ভোটগ্রহণ হয় ১৪৭ আসনে। ৫ জেলার কোনো আসনেই নির্বাচন হচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুর, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, জয়পুরহাট এবং চাঁদপুর। ৫ জেলার ১৫টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
১৪৭ আসনে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আজ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩৯০ জন প্রার্থী।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে বরাবরই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এবার অনুপস্থিত। সার্কভুক্ত দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি। সাড়া মেলেনি তাতেও। ভারত ও ভুটান থেকে মাত্র চারজন পর্যবেক্ষক ঢাকায় এসেছেন। তবে দেশীয় কয়েকহাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন বলে জানা গেছে।