আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। যিনি ছিলেন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক।
[b]জন্ম ও শৈশব:[/b] জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ীতে। তার বাবা মনসুর রহমান একজন রসায়নবিদ হিসেবে কলকাতায় সরকারি চাকরি করতেন। জিয়াউর রহমানের শৈশব কাল কেটেছে বগুড়া ও কলকাতায়।
১৯৫৩ সালে তিনি করাচি একাডেমি স্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষ করে করাচিতে ডিজে কলেজে ভর্তি হন।
[b]সামরিক বাহিনীতে:[/b] ১৯৫৩ সালে তিনি কেকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে শিক্ষানবিশ অফিসার হিসেবে যোগ দেন। আর ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি সেখানে দুই বছর চাকরি করেন এবং তারপর ১৯৫৭ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন।
জিয়াউর রহমান ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি খেমকারান সেক্টরে একটি কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন। যে সব কোম্পানি যুদ্ধে বীরত্বের জন্য সর্বাধিক পুরষ্কার পায় তার কোম্পানি ছিল সে গুলোর মধ্যে অন্যতম।
১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে একজন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান। আর সে বছরই তিনি যোগ দেন পশ্চিম পাকিস্তানের কেয়াটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে। তিনি জয়দেবপুরস্থ সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিয়োগ পান ১৯৬৯ সালে। পরে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য যান পশ্চিম জার্মানিতে। ১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিয়োগ পান।
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তিন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন। তিনি সেনা সদস্যদের সংগঠিত করে পরবর্তীতে তিনটি সেক্টরের সমন্বয়ে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধপরিচালনা করেন। ১৯৭১ এর জুন পর্যন্ত ১নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন তিনি। এরপর জেড-ফোর্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জিয়া। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পরবর্তিতে তাকে ভূষিত করা হয় বীর উত্তম উপাধিতে।
স্বাধীনতার পর প্রথমে তিনি কুমিল্লা ব্রিগেড কমান্ডার এবং ১৯৭২ সালের জুনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ-অফ-স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭২ সালে কর্নেল, ১৯৭৩-এর মাঝামাঝি ব্রিগেডিয়ার এবং শেষ দিকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন জিয়াউর রহমান।
[b]রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে[/b]: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্র চলে আসেন। ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধান সামরিক প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়া দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন।
[b]রাজনীতিতে জিয়া[/b]: ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ওই দিন বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরায় এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন দলের সমন্বয়ক এবং প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আর অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন দলের প্রথম মহাসচিব।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পরপরই জিয়া দলের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেন। যার মাধ্যমে দলের কর্মীদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দলের আদর্শ, সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হত।
জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে মালেক উকিলের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৩৯টি ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দুটি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল আটটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি একটি ও মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি আসনে জয়লাভ করে।
[b]আর্থ-সামাজিক সেবা:[/b] সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান; জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি; বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমান। সেই সঙ্গে দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব, শিল্প বিপ্লব এবং সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১ হাজার ৪০০ খাল খনন ও পুন:খনন করেন তিনি।
গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীও (ভিডিপি) গঠন করা হয়।
এ ছাড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ, তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করেন তিনি। এমনকি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগও গ্রহণ করেন জিয়া।
[b]আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবদান:[/b] প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতিমালায় বিশেষ পরিবর্তন আনেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরাশক্তির দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বিশেষ একটি কূটনৈতিক অবস্থানের সৃষ্টি হয়। যার ফলে বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী ভারতসহ সোভিয়েত ইউনিয়নের বন্ধুমনা অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক নৈকট্য গড়ে উঠেছিল।
জিয়াউর রহমান মূলত আঞ্চলিক সহায়তাকে গুরুত্ব দিতেন। আর তার প্রতিফলন ঘটে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহায়তা সংস্থা (সার্ক) গঠনে তাঁর উদ্যোগ ও অবদানের মধ্য দিয়ে।
[b]মৃত্যু:[/b] ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুথানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। তাকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দাফন করা হয়।
[b]ঢাকা, ৩০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) //এএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী
আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। যিনি ছিলেন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার





