পুলিশ থানায় আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমার স্বামীর হাতে পুলিশের হাতকড়ার দাগ দেখেছি। অথচ এখন ছাদ থেকে পড়ার ‘নাটক’ সাজানো হচ্ছে।
‘সাপ্তাহিক অপরাধ দমন’ পত্রিকার প্রতিবেদক শাহ আলম সাগর রোববার উত্তরা পশ্চিম থানা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত হন বলে জানায় পুলিশ।
থানা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শাহ আলম সাগরের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও নিহতের স্ত্রী সোমা আক্তার সোমবার আহাজারি করে এই অভিযোগ করেছেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহ আলম মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাটগাঁয়ের বাসিন্দা হাজী পানু মিয়ার ছেলে। ‘সাপ্তাহিক অপরাধ দমন’ পত্রিকার প্রতিবেদক। শাহ আলম স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উত্তরায় থাকতেন। বছর বারো আগে শাহ আলমের সাথে সোমার বিয়ে হয়। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
উত্তরা থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা টাইম নিউজবিডি’কে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, উত্তরা ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহমেদের সাথে রেশারেশির বিষয়ে মীমাংসা করতে শাহ আলমকে থানায় ডেকে নেয়া হয়েছিল।
নিহতের স্ত্রী সোমা আক্তার সোমবার টাইম নিউজবিডি’কে বলেন, “পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। পুলিশ আমার সন্তানকে এতিম করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”
সোমা জানান, সোমবার সকালে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়েছিলেন। থানার ওসি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তিনি কথাও বলেছেন।
তিনি ওসি রফিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে বলেন, “ওসি আমাকে বলেছেন, স্বামীর দাফনের কাজ শেষ হলে কিছু টাকা নিয়ে যাইয়েন।” একথা বলেই সোমা আক্তার ক্রন্দন কন্ঠে বলেন, টাকা চাই না, আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই।” থানায় স্বামী শাহ আলম সাগরের দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি ক্যামেরা রয়েছে বলে জানান সোমা।
পুলিশের নির্যাতনে শাহ আলম নিহত হয়েছে বলে স্ত্রী সোমা যে অভিযোগ করেছেন সে বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি টাইম নিউজবিডি’কে বলেন, “পুলিশ তাকে মারধর করেছে, তা তার পরিবার কিভাবে জানলো? জিন-পরী নিয়োগ করে শুনছে নাকি? আপনারা এমন সব আজগুবি প্রশ্ন করেন! বিব্রতকর প্রশ্ন করেন! শুনে অবাক না হয়ে পারছি না।”
অধ্যক্ষ বশিরের সঙ্গে রেশারেশির বিষয়ে সোমা বলেন, “বশির উদ্দিনের কাছে ওই কলেজের কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম অল্প কিছু টাকা পেতেন। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও নজরুল টাকাটি ফেরত পাচ্ছিলেন না। গরিব মানুষের টাকা আদায় করে দিতে চেয়েছিল সাগর।”
নিজের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বশির ও সাগর উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।
“তাই সে (সাগর) থানা পুলিশের আহ্বানে বশির উদ্দিনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করতে থানায় গিয়েছিল বলেও জানান সোমা।
এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মোরশেদ আলী মৃধা শাহ আলম সাগরের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার দুপুরে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়ের করার পর চারজনকে আটকও করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- অধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান এবং কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম।
মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) মাহমুদ আলী মাহমুদ জানান, শাহ আলম ওরফে সাগর থানার ছাদ থেকে কিভাবে পড়ে মারা গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার ঘটনায় তদন্ত কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেড়িয়ে আসতে পারে বলেও জানান মাহমুদ আলী।
[b]ঢাকা, জেইউ, ৪ মার্চ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) //এসএইচ[/b]