রাজধানীতে মালবাহী পিকআপ,ভ্যান ও রিকশা চালকদের রাস্তায় থামিয়ে চাঁদাবাজি করছে আনসার সদস্যরা। ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে এই চাঁদাবাজির মহোৎসব।
রাজধানীর ফার্মগেট,কারওয়ান বাজার,পেট্রোবাংলার অফিস,বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশন অফিসের সামনে এবং পান্থপথ সিগন্যাল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা য়ায়,কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার থেকে বিভিন্ন মালবোঝাই গাড়িকে টার্গেট করেই প্রতিটি রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকে একাধিক আনসার সদস্য।
কাঁচাবাজার থেকে মাল বোঝাই করে বের হওয়ার পথে প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে নিচ্ছে তারা। টাকা দিতে গড়িমসি করলেই চালক ও হেলপারকে হেনস্থা করছেন আনসার সদস্যরা। নানাভাবে ঝমেলায় ফেলে এক পর্যায়ে তাদের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
তাদের হাত থেকে টাকা না দিয়ে রক্ষা পাচ্ছেন না অল্প কাঁচামালবোঝই একটি রিকশাও। এমনকি যেসব পয়েন্ট দিয়ে রিকশা চলাচল নিষেধ সেসব পয়েন্টে টাকার বিনিময়ে অনায়াসে রিকশা চলাচলের সুযোগও করে দিচ্ছেন তারা। এতে এই সমস্ত পয়েন্টে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফলশ্রুতিতে ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী চাকুরীজীবীরা।
কারওয়ান বাজার স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের নিচে সাজেদুল ও রহমান নামের দু'জন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করেন।রোববার সকালে প্রতিটি গাড়ী থেকে তাদের চাঁদার টাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়।
চাঁদার টাকা তোলার ব্যস্ত দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন তাদের টাকা তুলতেই এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিসের টাকা তুলছেন আপনারা? এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ দুই আনসার সদস্য বলেন, 'আমরা জোর করে কারও কাছ থেকে টাকা নেই না। এখনও জোর করে টাকা নিচ্ছি না। ড্রাইভাররা খুশি হয়ে চা-নাস্তা করতে টাকা দিচ্ছে।'
কি কারণে আপনাদের ওপর খুশি হয়ে টাকা দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সাজেদুল নামের আনসার সদস্য এগিয়ে এসে বলেন, ভাই পাঁচ দশ টাকা করে চা খেতে নিচ্ছি। এটা কোনো অন্যায় না। আপনারা কে? কেন বিরক্ত করছেন?
অন্যদিকে পেট্রোবাংলা অফিসের নিচে দায়্ত্বি পালন করতে দেখা যায় আরেক আনসার সদস্য আবুল হোসেনকে। তার পাশেই দায়িত্ব পালন করেন তেজগাঁও থানা পুলিশ সদস্যরা।
উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই গাড়ি থামিয়ে টাকা নিচ্ছেন আবুল হোসেন। খোদ পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্যরা চাঁদার টাকা উত্তোলন করলেও নির্বিকার ভূমিকা তাদের। এঘটনায় ক্ষুব্ধ ছোট-বড় সবজি পাইকার ও ব্যবসায়ীরা।
সোমবার একইভাবে প্রশ্ন করা হলে আবুল হোসেন টাকা উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। আপনি তো টাকা নিচ্ছেন দেখলাম এমন প্রশ্নের জবাবে অপ্রস্তুত হয়ে যান তিনি। পরে একটু দম নিয়ে বলেন,এ মাসের বেতন হয়নি। সকালে নাস্তাও হয়নি। ভাই কি করবো বলেন? চলতে তো হবে। এজন্য পাঁচ দশ টাকা যা পাই নিচ্ছি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নিচ্ছি না।
এসব আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তোলন করা টাকার একটা বড় অংশ আনসার বাহিনীর কমান্ডারদের পকেটে যায়। ভাগের বখড়া শুধু কমান্ডাদের পকেটে নয়, উর্ধ্বতন অনেক কর্তাব্যক্তির পকেটেও যাচ্ছে। আবার সংশ্লিষ্ট তেজগাঁও থানা পুলিশকেও মিটিয়ে চলেন এসব আনসার সদস্য।
ঢাকার ডিস্ট্রিক কমান্ডেন্ট খলিলুর রহমানকে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি টাইম নিউজবিডি'কে বলেন,কারওয়ান বাজার এ সংলগ্ন এলাকার আনসার সদস্যরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন। এদের দেখভাল করে ডিএমপি।
তিনি আরও বলেন,এভাবে টাকা নেওয়ার কোনো আইনগত বৈধতা নেই। যেহেতু আমি অভিযোগ পেলাম বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
এ ব্যাপারে ঢাকা তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব সরকার টাইম নিউজবিডি'কে জানান,আমার জানা মতে রাজধানী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)সাথে খুব কম সংখ্যক আনসার সদস্য কাজ করেন। ডিএমপি তাদের নিয়মিত বেতন ভাতাও দেয়।
তিনি জানান,তেজগাঁও জোনে মাত্র ১০/১২ জন আনসার সদস্য বিভিন্ন থানায় বিভক্ত হয়ে কাজ করেন। কারওয়ান বাজারে চাঁজাবাজির সাথে এদের সংশ্লিষ্টতার সুযোগ কম। তবুও অভিযোগ পেলে বিষষটি খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি জানান, কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন ভবন ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আনসার সদস্য রয়েছে। যেমন তিতাস ও পেট্রো বাংলা। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে আনসার সদস্য নিয়োগ দিয়ে থাকে। এসব আনসার সদস্য চাঁজাবাজি করলে এর দায় পুলিশ নিতে পারে না।
[b]ঢাকা, জেইউ, ৩১ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]
শ্রেণীহীন
চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত আনসার সদস্যরা
রাজধানীতে মালবাহী পিকআপ,ভ্যান ও রিকশা চালকদের রাস্তায় থামিয়ে চাঁদাবাজি করছে আনসার সদস্যরা। ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে এই চাঁদাবাজির





