ঢাকা:বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার এবং যৌথবাহিনী ও তাদের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনে নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করে বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দল নিধনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশকে ক্রমান্বয়ে এক চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু তাই নয়, সরকার দলীয় গুণ্ডারা সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে তার দায়ভার বিরোধী দলের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে যা আওয়ামী লীগের চিরাচরিত মিথ্যাচারেরই অংশ।’

তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন, তাছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনই এখন তাদের ওপর হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে সংবাদপত্রে তাদের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।’

বিএনপির মুখপাত্র ১৮ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জোটের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের পাশে থেকে যথাযথ সাহায্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতি ও দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত বর্জন এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রবল সমালোচনার মুখে সরকার মরিয়া সরকার হয়ে উঠেছে।

‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার এবং যৌথবাহিনী ও তাদের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল।

আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন ও গ্রেপ্তার অভিযান বন্ধ না করলে অতীতের স্বৈরাচারদের মতোই ভাগ্যবরণ করতে হবে বলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জনতার যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জোটের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে ঘোষিত সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাবার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।