চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল ও ফোরকান খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে জাহাঙ্গীর নামে একজনকে নগরীর খুলশী থেকে এবং  বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে দুপুরে কামরুলের বাবা মো. হাকিম সিএমপি’র খুলশী থানায় বাচাইয়া, শাহেদ, জীবন, আকাশ, ভুট্টো, শাহ আলম, লেদু, জাহাঙ্গীর (ছট্টো) ও বাহারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
খুলশী থানার ওসি মাঈনুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে সিএমপির ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে খুলশী এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর চাঁদার টাকায় ভাগ বসানোর কারণে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ও হাত পায়ের রগ কেটে ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল ও ফোরকানকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করে। খুনের আগে কামরুল ও ফোরকানকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে দেওয়া হয় বলে জানায় জাহাঙ্গীর।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কুসুম দেওয়ান জানান, চাঁদার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টির কারণে লোমহর্ষক এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটায়। এতে ৮ থেকে ১০ জন সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আসামিরা সবাই নগরীর দুই নম্বার গেট, নাসিরাবাদ ও টেকনিক্যালসহ আশপাশের এলাকার ছিঁচকে সন্ত্রাসী বলেও জানান তিনি।
কুসুম দেওয়ান বলেন, জাহাঙ্গীরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং করে বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে শাহআলমসহ তিন জনকে খাগড়াছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহআলম মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আর জাহাঙ্গীর পাঁচ নম্বর আসামি।
গত সোমবার সকাল ১১টায় সিএমপির খুলশী থানার ষোলশহর দু’নম্বর গেট এলাকায় একটি বহুতল ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে কামরুল ও ফোরকানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা উভয়ই নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কামরুল ইসলাম এমইএস কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আর ফোরকান সিইপিজেডে একটি কারখানায় কর্মরত ছিল।
ঢাকা, ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই