[b]ঢাকা:[/b] তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মরদেহ আজ সকালে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ সেখানে রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মরদেহ নেয়া হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গুলশান আজাদ মসজিদে বাদ আসর আরোক দফা জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হতে পারে। গতকাল রোববার মরহুমের শ্যালক আলী ইফতেখার চৌধুরী একথা জানান।
অসুস্থ বোধ করায় বিচারপতি হাবিবুর রহমানকে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিত্সকরা।
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন ভাষাসৈনিক, শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন। অবসরের পর ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এ গুণীজন।
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯২৮ সালের ৩ ডিসেম্বর, ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার দয়ারামপুর গ্রামে। বাবা মৌলভী জহিরউদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন একজন আইনজীবী। মা গুল হাবিবা ছিলেন গৃহিণী।
আইনের পাশাপাশি শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনেও তার ছিল সমান পদচারণ। সব মিলিয়ে তার বইয়ের সংখ্যা অর্ধশত। এর মধ্যে রয়েছে অভিধান, প্রবন্ধ ও কাব্যগ্রন্থ।
অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ১৯৮৪ সালে তিনি পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। ২০০৭ সালে পান একুশে পদক। এর বাইরে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস গবেষণা পরিষদ পুরস্কার, দক্ষ প্রশাসক পুরস্কার, ইব্রাহিম মেমোরিয়াল পুরস্কার, অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার, সরোজিনী নাইডু পুরস্কার, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার ও স্পেশাল কনট্রিবিউশন টু হিউম্যান রাইটস পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।