[b]ঢাকা: [/b]বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, এই সংসদ অবৈধ এই নির্বাচনও অবৈধ। আর এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোন বৈধ সংসদ হতে পারে না।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘৫-ই জানুয়ারির কলঙ্কিত নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আপনি এখনও ইচ্ছা করলে সংসদ অধিবেশন ডেকে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে পারেন। ১৬ কোটি মানুষ দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। কিন্তু আপনি সেটা করবে না। কারণ আপনার আশপাশের মানুষ আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে, সকল ভুল কাজের খেসারত আপনার পরিবারকেই দিতে হয়, অন্য কাউকে নয়। আর এই ভুলের খেসারত আপনাকেই একাই দিতে হবে।
বর্তমান সংসদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কারচুপির মাধ্যমে ৫ জানুয়ারির  নির্বানের ১৫৩ জন এমপি ঘোষণা করেছে সেটা বৈধ হবে না, সেটা হবে অ। কারণ এই নির্বাচন অবৈধ। আর এই অবৈধ এমপিদের দিয়ে কোন সংসদ ও সরকার হতে পারে না, আর এটা বাংলাদেশের জনগণ হতেও দেবে না।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখনও সময় সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুয়ারি ২৪ জানুয়ারি মধ্যে নিরপক্ষে সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করুন। কারন ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তাই দেশের স্বার্থে আপনি এখনি পদত্যাগ করুন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে কলঙ্কিত নির্বাচন ছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না। আর তারা সেটাই জনগণকে উপহার দিয়েছে।
ভারত সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা ভুল পথে পা দিয়েছে। কারণ এটা নেপাল ও ভূটান নয়, এটা বাংলাদেশ। এ দেশের মানুষ কারো তাবেদারি পছন্দ করে না। তাই এখনও সময় আছে তাবেদারি করা বাদ দিন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মাহবুব হোসেন বলেন, আপনার সরকারের কোন বৈধ ও সাংবিধানিক অধিকার নেই। কারন সংবিধান অনুয়ারি আপনার সরকার কাজ করেননি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, আপনার পিতা রক্ষীবাহিনী, লাল বাহিনী প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু তাতে আপনার পিতার শেষ রক্ষা হয়নি। আপনি যতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দলীয়করণ করে আত্মারক্ষার চেষ্টা করেন না কেন আপনারও শেষ রক্ষা হবে না।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ব্রাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।