প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার নতুন ৩টি বিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এজন্য বিদেশ থেকে নেয়া হচ্ছে কঠিন শর্তে ঋণ। এর মধ্যে ২ প্রকল্পের জন্য আলাদাভাবে চীনের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বায়ার্স ক্রেডিট হিসাবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাতাসংস্থা ও সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্নভাবে দেন-দরবার করে অর্থ না পাওয়ায় কঠিন শর্তে ঋণ নেয়া হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য আগামীকাল রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্র্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে একটি রোডম্যাপ হাতে নেয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে একনেক সভায় তিনটি নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এজন্য মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে ২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। আর বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ২০১০ সালে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার।
এর অধীনে বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন সম্ভব না হলে গৃহীত রূপকল্প অর্জন করা সম্ভব হবে না। কেননা ২০২১ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অগ্রগতি সাধন, দারিদ্র্য বিমোচন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সহজতর হবে।
এক্সটেনশন অফ বড়পুকুরিয়া কোল ফায়ার্ড থার্মাল পাওয়ার স্টেশন বাই ২৭৫ মেগাওয়াট (তৃতীয় ইউনিট) শীর্ষক প্রকল্পের বিপরীতে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি) ঋণ হিসাবে দেবে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্যয় করবে ২০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আসিফ উজ জামান বলেন, চীনের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। যথাসময়ে প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে অনুমোদন না হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই এ ঋণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা ছিল।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টেন্ডারার্স ফাইন্যান্সিংয়ের অর্থায়নের মাধ্যমে বড়পুকুরিয়া ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি টার্ন-কি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সর্বনিন্ম দরদাতা জয়েন্ট ভেঞ্চার হারবিন ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড এবং সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং পিআর চায়নার দরপ্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
[b]ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ/এফএ[/b]





