সুখচর ইউনিয়নের উপকূলীয় মেঘনা নদীতে ভাসছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের লাশ। গত ৪ দিন যাবত অজ্ঞাত ২০-২২ টি লাশ ভাসতে দেখেছেন স্থানীয়রা। ভরাকাটালে লাশগুলো ভেসে আসছে তীরে আবার মরাকাটালের সময় মাঝ নদীতে ফিরে যাচ্ছে।
এ বিষয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ইতোমধ্যেই লাশগুলো গলে যাওয়ায় তা সনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে না।
গত কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকাল থেকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের পশ্চিম ও উত্তর পাশ, বৌ বাজার এবং হরিণ বাজার এলাকায় মেঘনা নদীতে এসব লাশ ভাসতে দেখা যায়। তাদের ধারনা লাশগুলো জলদস্যুদের হতে পারে।
রোববার চেয়ারম্যানঘাট বাজারের পাশের নদীতে ভাসমান অবস্থায় ৪ টি লাশ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।
সুখচর ইউনিয়নের কাদির সর্দারদের বাড়ি সংলগ্ন উত্তরপাশের নদীতে ফুলে যাওয়া আরও ৪টি লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী।
সকাল আনুমানিক ৭টায় গ্রামের উত্তরপাশে একটি লাশ নিয়ে কয়েকটি কুকুরকে টানা হেঁচড়া করতে দেখা গেছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সেখানে গেলে কুকুরগুলো পালিয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় লাশগুলোর সঠিক পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। একই ভাবে নদীতে মৃতদেহ ভাসতে দেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মধ্যচর আমানুল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিধান চন্দ্র দাস ও সুখচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন।
নদীতে লাশ ভাসার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ ফজলে রাব্বি বলেন, খবর পেয়ে শনিবার রাতেই উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন ও এসআই টিপুসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো লাশ দেখতে পাননি।
একই ভাবে হাতিয়া কোস্ট গার্ডের স্টেশন কমান্ডার হামিদুর রহমান জানান, তাদের কাছে সাগরে বা মেঘনায় ভেসে যাওয়া লাশের কোনো খবর নেই। স্থানীয় ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি ।
[b]ঢাকা, ১৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর[/b]