নিরুত্তাপ নির্বাচনের আয়োজন চলছে চট্টগ্রামে। নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তৎপর থাকলেও প্রার্থীদের তেমন কোনো প্রচারণা নেই। আলোচনাও নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে তাঁদের মাঝে নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে অজানা আশঙ্কা।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘খুব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন চলছে। কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নেই। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলে আমরা ঘুমাতে পারতাম না।’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব কাজ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে বলে তিনি দাবি করেন। আগামী ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের নয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম চট্টগ্রামে এসেছে। এখন চলছে নির্বাচনে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। প্রতিদিন বিভিন্ন আসনে গিয়ে থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ভোট গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পেয়েছি। তখন কোনো ধরনের ভয় ছিল না। কিন্তু এবারের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে।’
তবে সবচেয়ে বেশি শঙ্কার মধ্যে রয়েছে সহিংসতাপ্রবণ এলাকাখ্যাত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের মানুষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর থেকেই এসব এলাকায় থেমে থেমে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে সাতকানিয়া জামায়াত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া প্রতিটি সংসদীয় আসনে ১৮ দলের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আরও আগে। প্রতিরোধ কমিটি গঠনের কথা সরাসরি স্বীকার না করে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবুল ফয়েজ বলেন, ‘সাতকানিয়ায় আমাদের কমিটি তো আছেই। যেভাবে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ আসবে, সেভাবে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’
চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘যেহেতু কয়েকটি এলাকায় আগে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তাই আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে সেখানে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।