[b]নয়াদিল্লি:[/b] ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনা অবস্থানকে স্থায়ী করতে চান ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিক্রম সিং। এ ছাড়া, প্রদেশটিতে কার্যকর সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা 'আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট' (এএফএসপিএ) বাতিলের দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অর্থ্যাৎ জম্মু ও কাশ্মীরে সেনা অবস্থানকে স্থায়ী করার পক্ষে বিক্রম সিংয়ের যুক্তি হচ্ছে- চলতি বছর আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা এই অঞ্চলটিতে 'সন্ত্রাসী তৎপরতা' বৃদ্ধি করবে।
কাশ্মীরে সেনবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়ার বিপক্ষে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এই বিশেষ ক্ষমতার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সব ধরনের অপকর্মকে বিচারের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে, কাশ্মীর হবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এক সেনাশাসিত অঞ্চল।
তবে, বিশেষ ক্ষমতা আইনকে জাতীয় কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিং। তবে, এর ফলে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না বলে জানান তিনি। মানবাধিকারের ব্যাপারে তার বাহিনী 'জিরো টলারেন্স' অবলম্বন করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  
প্রসঙ্গত, কাশ্মীরে ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়। কাশ্মীর ছাড়াও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপজাতি অধ্যুষিত সাতটি রাজ্যে (সেভেন সিস্টার্স) সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন এএফএসপিএ কার্যকর রয়েছে।
আইনটির সমালোচকরা বলছেন, এর দ্বারা সেনাবাহিনীকে অযৌক্তিক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুম-অপহরণের অধিকার দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারতের নতুন রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির একজন শীর্ষস্থানীয় সদস্য প্রশান্ত ভূষণ কাশ্মীরে সেনাবাহিনী রাখা উচিত কি না তা জানতে গণভোট আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, কাশ্মীর হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্কিত একটি এলাকা। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে সংঘাত চলে আসছে। এ নিয়ে ১৯৪৭-৪৮, ১৯৬৫ ও ১৯৯৯ সালে তিনবার যুদ্ধও হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা