[b]ঢাকা: [/b]গেল বছরের ডিসেম্বরে বিদেশী বিনিয়োগ সর্বনিম্নের রেকর্ড গড়েছে। যা গত ৫ বছরেও এত নিচে নামেনি। এতে সামগ্রিক অর্থনীতির স্ট্রাকচার ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে টানা অবরোধ-হরতালের মাশুল দিচ্ছে দেশের অর্থনীতি। দেশী বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগে চরম ধস নেমেছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণহীন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দেশের অনিশ্চিত গন্তব্যে অন্যান্য বিনিয়োগ পরিস্থিতিও থমথমে। কোথাও থেমে, আবার কোথাও রয়েছে অপরিবর্তিত। সব মিলিয়ে কোন সূচকই ভাল যাচ্ছে না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রথমত নির্বাচন পূর্ব অস্থিরতা এবং দ্বিতীয়ত নির্বাচন উত্তর অনিশ্চয়তা। মূলত প্রধান এই দুই কারণে আজকের করুণ চিত্র। বিদেশীরা বিনিয়োগের আগে গ্যারান্টি চায়, সুষ্ঠু পরিবেশ চায়। এর কোনটি এখন উপস্থিত নেই। এছাড়া গত কয়েক বছর ব্যবসায়িক যে অবক্ষয় ঘটেছে। তা দ্রুততম সময়ের ব্যবধানে সারার নয় বলে মনে করেন তিনি।
বিনিয়োগ বোর্ডের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মোট বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৪,১৫৭ কোটি টাকা। যা নভেম্বরে ছিল ৫,৫৮৭ কোটি টাকা। আর সেপ্টেম্বরে ছিল ১৬,৪৭০ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে ১২,০০০ কোটি টাকা কম হয়েছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। এ সময় ১০৫টি শিল্প নিবন্ধনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৯,৭৫৪ জনের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নাজুক এ পরিস্থিতিতে বড় বিনিয়োগের কোন পরিবেশ নেই। যে কারণে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে বসে আছে। আর যদি এভাবে চলতে থাকে তবে অর্থনীতির অবস্থা কোথায় যাবে কেউ বলতে পারবে না। ব্যাংকাররা বলছেন, গোলযোগপূর্ণ এ মুহূর্তে ব্যাংকগুলোর কাছে দিনের পর দিন অলস টাকা বাড়ছে। এ টাকার পরিমাণ বর্তমানে ৯১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এ দিকে সুদের হার নিয়েও চলছে নানা ধরনের মতভেদ। ব্যবসায়ীরা বলছে, উচ্চ সুদের হার নির্বিঘ্ন ব্যবসায় ঘটাচ্ছে বিঘ্নতা। এফবিসিসিআই বলছে, অস্থির এ সময়ে কাউকে ঋণ খেলাপি করা যাবে না। সুদের হার বাড়ানো যাবে না। এর জবাবে ব্যাংকাররা নেন সব সময় মৌনতার আশ্রয়। ফলে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের দীর্ঘদিনে সুদ সংক্রান্ত সমস্যা থেকেই গেল।
এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম বলেন, বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া আদায় করা হচ্ছে নানা চার্জ। এগুলো সুদহারকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার ও বিরোধী দলের চলমান নৈরাজ্যপূর্ণ পরিবেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যাংকিংয়ের কোন পরিবেশ নেই। যার কারণে সব কিছু ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে বিদেশী নিবন্ধতি শিল্পের সংখ্যা মাত্র ৪টিতে নেমে এসেছে। যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া গত নভেম্বর-সেপ্টেম্বরেও ছিল যথাক্রমে-১০ ও ১৫টি। বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩৩৮ কোটি টাকা। যা সেপ্টেম্বর মাসেও ছিল ১৫,১৪১ কোটি টাকা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২৮৯ জনের। যা নভেম্বর-সেপ্টেম্বরেও ছিল যথাক্রমে ৩,৪৫১ ও ৪,০০০ জন। তবে সার্বিক বিচারে কম হলেও মাসিক হিসাবে দেশী বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে।
এ সময়ে দেশী নিবন্ধিত শিল্পের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০১টিতে। যা নভেম্বরে ছিল ৭২টি। বিনিয়োগ হয় ৩,৮১৮ কোটি টাকা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় ১৯,৪৬৫ জনের।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
বিদেশী বিনিয়োগে সর্বনিম্ন রেকর্ড
ঢাকা: গেল বছরের ডিসেম্বরে বিদেশী বিনিয়োগ সর্বনিম্নের রেকর্ড গড়েছে। যা গত ৫ বছরেও এত নিচে নামেনি। এতে সামগ্রিক অর্থনীতির স্ট্রাকচার ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।





