দলীয় পদ নিয়ে সৃষ্ট দলীয় কোন্দলের জেরে খুন হয়েছেন রাজধানীর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রানা। গোয়েন্দা পুলিশ ও অভিযুক্তদের নজর এখন রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বপনের দিকে।
হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তবে তদন্ত কাজের স্বার্থে বিষয়গুলো গোপন রাখা হচ্ছে বলেও রমনা থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
রমনা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বপনের সাথে রানার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ২৩ জানুয়ারি দৃর্বৃত্তদের হাতে রানা নিহত হওয়ার ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই মতিউর রহমান (রুলেন) বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রমনা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়ের একদিন পরে হলেও হত্যাকাণ্ডের পরপরেই পুলিশ তদন্তের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে রমনা থানা পুলিশ।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরেই তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। মামলা দায়েরের পরেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মতিউর রহমান ওরফে রিপন (৩২), শামুসল আহসান ওরফে বাহার (৩৫) এবং জামাল হোসেন (৩৪)।
মামলাটির এ তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনই রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন। দলীয় কোন্দল ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা এবং ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দিতার জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি। হত্যাকাণ্ডের পর সম্ভাব্য তিনটি বিষয় মাথায় রেখে গত শুক্রবার সকাল থেকে তদন্ত কাজ শুরু করে রমনা থানা পুলিশ।
বিষয় তিনটি হলো- দলীয় কোন্দল, ব্যবসায়িক শত্রুতা এবং দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
নিহতের ভাইয়ের দায়েরকৃত হত্যা মামলার বাদী মতিউর রহমান (রুলেন) টাইম নিউজকে জানান, দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই খুনের পেছনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বপনের হাত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দলীয় কোন্দল,ব্যবসায়িক ও পারিবারিক শত্রুতা মাথায় রেখে তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা সবাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলেও জানান তিনি।
নিহত রানার ভাগ্নে আদর আলী অভিযোগ করেন, দলীয় অধিপত্য বিস্তারের জেরে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বপনের সাথে রানার বিরোধ চলছিল। রানা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।
এর আগে তিনি রমনা থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে তারা মামা খুন হতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এব্যাপারে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ঢাহা মিথ্যা। অন্য কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তার ওপর দোষ চাপাতে চাচ্ছে। এসময় তিনি রানা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, তদন্তের কাজ চলছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, দলীয় কোন্দল ও পদ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই খুনের প্রধান কারণ। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে অনেক বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মগবাজার মোড়ে মসজিদ গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রানা।
রক্তাক্ত অবস্থায় রানাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া কয়েকটি ককটেল ও রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
[b]ঢাকা, জেআই, ২৫ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআরআর[/b]
শ্রেণীহীন
রানা হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক কোন্দল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের, দাবি স্বজনদের
দলীয় পদ নিয়ে সৃষ্ট দলীয় কোন্দলের জেরে খুন হয়েছেন রাজধানীর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রানা। গোয়েন্দা পুলিশ ও অভিযুক্তদের নজর এখন রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বপনের দিকে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।





