চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের  পাচঁ দফা  সম্পন্ন হয়েছে। আর এ পাঁচ দফা নির্বাচনে ২০  লাখ  ১৭ হাজার ৮৮৩টি ভোট বাতিল হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম দফায় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩টি, দ্বিতীয় দফায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৫টি, তৃতীয় দফায়  ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫৫টি,  চতুর্থ দফায় ৩ লাখ ২ হাজার ২৮টি এবং সর্বশেষ পঞ্চম দফায় ভোট বাতিল হয়েছে  ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৪২টি ।
প্রথম চার দফায়  ১৭ লাখ  ভোট বাতিল হওয়ার পর থেকে ৭৩ উপএএমজেলায় ইসির পক্ষ থেকে  ভোট দেয়ার নির্দেশিকার পোস্টার লাগানোসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু এর পরেও কমানো যায়নি বাতিল ভোটের সংখ্যা। এছাড়া  দশম সংসদ নির্বাচনে ১৪৭ আসনে  বাতিল  হয়েছিল ২
লাখ ৫০ হাজার ভোট। যা উপজেলা নির্বাচনের প্রথম থেকে পঞ্চম দফার চেয়ে তুলনা মূলক অনেক কম।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে চতুর্থ উপজেলার পাঁচ দফায় কেন এত ভোট বাতিল হয়েছে তা জানতে ইসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এ নিয়ে উদ্বিগ্ন  নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  
ইসি সূত্র জানায়, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীর চেয়ে ব্যালট পেপারে প্রতীক সংখ্যা বেশি থাকায় প্রার্থীবিহীন প্রতিকে ভোট দেয়ায় চার দফায় ১৭ লাখ ভোট বাতিল হয়েছে বলে প্রথম চার দফা নির্বাচনের পর ভোট বাতিলের কারন নির্ধারণ করে কমিশন।
এছাড়া সঠিকভাবে ভোট দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণা না থাকায় প্রচুর ভোট বাতিল হচ্ছে বলে কারণ নির্ধারন করা হয়। এরপর বাতিল ভোট কমানোর জন্য ইসির পক্ষ থেকে পঞ্চম দফা নির্বাচনের আগে কিভাবে ভোট দিবেন এবং কিভাবে ব্যালট পেপার বাজ করতে হবে তার উপরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায় মাঠ পর্যায়ের ইসির কর্মকর্তারা ।
এছাড়া বাতিল ভোট কমানোর জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোট প্রদান সম্পর্কিত প্রচারণা বাড়ানোসহ প্রতি ভোট কেন্দ্রের সামনে কিভাবে ভোটাররা ভোট দিবেন তার  নির্দেশিকাসহ পোস্টার সাটানো হয়। ৱ
পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষ থেকে এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয় । পঞ্চম দফা নির্বাচনের আগের প্রচারণার অংশ হিসেবে ২০ লাখ  পোস্টার সাটানো হয়। এতকিছুর পরও পঞ্চম দফায় বাতিল ভোটের হার কমাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পরও পঞ্চম দফায় বাতিল হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৪২টি ভোট।
সরকারের পক্ষ থেকে চতুর্থ উপজেলার পাঁচ দফায় কেন এত ভোট বাতিল হয়েছে তা জানতে ইসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আর এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  
এ বিষয়ে সরকারকে কারণ দর্শাতে আগামি সপ্তাহের শুরুর দিকে বৈঠকে বসবে ইসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাতিল ভোটের প্রধান কারণ হচ্ছে জাল ভোট দেয়া ।  জাল ভোটগুলো খুব তারাহুড়া করে সিল মারতে গিয়ে প্রতীকের বাইরে ছিল পড়ার কারণে ভোট বাতিল হয়ে যায়। আবার দুটি প্রতীকের উপরও সিল লাগে। এজন্য  ইসি বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাতিল ভোট কমাতে পারেনি।  
তারা আরও বলেন, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে ১৪৭ আসনের বিপরীতে ভোট বাতিল  হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার। চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে প্রথম, দ্বিতীয়,তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ দফা মিলিয়ে মোট ২০ লাখ ভোট বাতিল হয়েছে বলা হলেও এর বেশি বাতিল হয়েছে।
কারণ যেভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বক্স ভরা হয়েছে তাতে বাতিল ভোটের সংখ্যা আরো বেশি হবে। আর বাতিল ভোট কমাতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ভোটারদের অসচেতনতা ও শিক্ষার হার কম হওয়ায় উপজেলায় ভোট বাতিল হয়েছে বেশি।
তিনি আরো বলেন, প্রার্থীর চেয়ে প্রতীক বেশি ও এক প্রতীকের সঙ্গে অন্য প্রতীকের অনেকটা সাদৃশ্য থাকায় বাতিল ভোট বেশি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাতিল ভোট কমানোর বিষয়ে কমিশন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকদফা বৈঠক করেছে ইসি। এ বিষয়ে কিছু পরিকল্পনা নেয়ার পরেও বাতিল ভোট কমানো যায়নি। পরবর্তী নির্বাচনে (ষষ্ঠ দফায়) এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা বলে জানান তিনি ।
[b]ঢাকা, এএম[/b][b][b], [/b]৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]