বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের ওপর ফের চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ইকোনমিক টাইমসে ‘অ্যামেরিকা’স ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ’স পলিটিক্স হার্ট দ্য ইন্টারেস্ট অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড রিজিওনাল পিস’ অর্থাৎ ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ভারত ও আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থের ওপর আঘাত হানছে’ শিরোনামে সাংবাদিক সুবির ভৌমিক একটি প্রতিবেদন লিখেছেন। এ প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়েছে, কারও সন্দেহ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্র ঢাকায় সরকার পরিবর্তনে বেশ আগ্রহী এবং তারা চায় আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজেনা সে বিষয়ে কোন কিছুই এ পর্যন্ত গোপন রাখেননি। অনেকে সন্দেহ পোষণ করেন যে, বঙ্গোপসাগরে একটি মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিতে পারেন খালেদা জিয়া, যা হাসিনা কোনদিনই করবেন না। আর সেটা ভারতও করবে না। এ প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে বলা হয়েছে, হাসিনা যদি যুক্তরাষ্ট্রের অনিবার্য রোষের মুখে পড়েন, তাতে ভারতের কোন সুফল নেই। এতে বলা হয়েছে, ভারত, চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশে পুনরায় নির্বাচিত শেখ হাসিনা সরকারের সমর্থনে হাত মেলানোর পর কিছুটা সময় দমে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ঢাকাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এটা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নয়। মোজেনা বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কয়েকবার সাক্ষাৎ করেছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্রের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। কিভাবে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন আয়োজন করা যায়, সে ব্যাপারে অচিরেই সংলাপে বসা এবং বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য জোর দিয়েছেন মোজেনা। ঠিক এ সময় ভারত তার পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। যদি এর অবসান হয় একটি ভঙ্গুর ম্যান্ডেটের মাধ্যমে এবং দিল্লিতে একটি দুর্বল সরকার আসে, প্রতিবেশী দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবেলা করার ব্যাপারে ভারত অনিশ্চয়তায় থাকবে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বৈরিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এটা হাসিনা সরকারের প্রতি দিল্লির নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অনিবার্য রোষের সম্মুখীন হতে দিলে, তাতে ভারতের কোন সুফল নেই। এদিকে হাসিনার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী নতুন করে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মোজেনার আহ্বানসমূহকে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলার আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে আসছিল বলে তিনি মনে করেন। এর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে নোবেল জয়ী ডক্টর মুহম্মদ ইউনূসকে সরানোর কারণে সিনেটের শুনানিতে হাসিনা সরকারকে তিরস্কার করা হয়েছে। এক সিনেট সদস্য সরকারের এ পদক্ষেপকে ‘স্থূল পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ডক্টর ইউনুসকে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ বেঁচে থাকার জন্য যে ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে, তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা বিসওয়াল ইউনুসকে তার পদ থেকে অপসারণের পদক্ষেপকে ‘ভীষণ লজ্জা’র ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন। ওই একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইআরআই বাংলাদেশে একটি জনমত জরিপ প্রকাশ করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকার কারণে অধিকাংশ বাংলাদেশী তাদের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। সর্বশেষ জরিপে ৫৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন বাংলাদেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, ঠিক পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। বিশেষত, দেশটির অর্থনীতি নিয়ে হতাশ ছিলেন অধিকাংশ মানুষ। ৬০ শতাংশ মানুষই বলেছিলেন, তারা বিশ্বাস করেন আগামী বছরগুলোতে এ অবস্থার আরও অবনতি হবে। সহিংসতার বিষয়েও প্রায় একই ধরনের মতামত উঠে এসেছিল। ৭১ শতাংশ মানুষ বলছেন তারা মনে করেন আগামী বছরগুলোতে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পাবে। জরিপের অর্থায়ন করেছিল ইউনাইটেড স্টেটস ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড দ্য ইউকে’স ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। তাই যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাবে না, এটা সুস্পষ্ট যে ওয়াশিংটন ঢাকাকে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনে বেশ চাপে রাখবে। বাংলাদেশে নতুন করে সংসদ নির্বাচন আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র যখন চাপ দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকে হুমকিতে ফেলতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেসের (জিএসপি) কার্ড নিয়ে খেলছে, তাতে খুব সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথের সমর্থন পাবে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় নির্বাচন বয়কট করা প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যদি বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠানরত উপজেলা নির্বাচনে ভাল ফলাফল করে, তবে সে চাপটা আরও বাড়বে।
[b]ঢাকা, ২৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]
‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ভারত ও আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে আঘাত হানছে’
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের ওপর ফের চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ইকোনমিক টাইমসে ‘অ্যামেরিকা’স ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ’স পলিটিক্স হার্ট দ্য ইন্টারেস্ট অব
টিআইবি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রে জিম্মি
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পরও রাষ্ট্র সংস্কারের কাঙ্ক্ষিত ভিত্তি তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’ নেহা বোরার মন্তব্যে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ভারতীয় তরুণদের পথ দেখিয়েছে—অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার এমন মন্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ওপর ক্ষোপ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
জহির উদ্দিন স্বপন এমপি নৈরাজ্যের রাজনীতির বদলে আমরা কার্যকর সংসদ তৈরি করেছি
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এমপি জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘রাজপথের নৈরাজ্যের রাজনীতির বদলে আমরা একটা কার্যকর জাতীয় সংসদ তৈরি করেছি। যেখানে বিরোধী দল সরকারি দলকে সমালোচনা করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে এবং অধিকার পাচ্ছে। তারা প্রতিদিন ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতাসহ সরকারকে ন্যায্য-অন্যায্য সমালোচনা করেই চলছে। অতএব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক এই সংস্কারের কাজেও আমাদের নেতা হাত দিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদকে তিনি কার্যকর করেছেন। ’
ভালো ও সৎ মানুষকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে যোগ্য, মেধাবী ও সৎ মানুষকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।
রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির কাজও করতে হবে: আজহার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, ব্যক্তির বিজয়ও নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে আখিরাতের মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে হবে।
















