ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, সন্ত্রাস এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে অন্তত ১২টি উপজেলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বয়কটের  ঘোষণা করেছেন।
ভোট বর্জন করা উপজেলাগুলো হলো, বরিশাল, ভোলার চরঢফ্যাশন,বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালীন কোম্পানিগঞ্জ,কবিরহাট, ফেনী, পরশুরাম,  ঢাকার কেরানীগঞ্জ, যশোরের চেৌগাছা শার্শা, মাদারীপুরের শিবচর, কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কক্সবাজারের চকরিয়া । এসব উপজেলায় স্থানীয়ভাবে হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

তারা ওইসব উপজেলায় নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। যশোরের শার্শায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের সমর্থিত প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কাউনিয়ার নিজ বাসভবনের সংবাদ সম্মেলন করে এ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর থেকে সদর আসনের এমপি শওকত হোসেন হিরণ তার লোকজন নিয়ে কর্ণকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র ও ভূঁইয়াবাড়ী ভোট কেন্দ্র দখল করেন। এসময় মারধর করে ভোট কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে দেন। মজিবর রহমান সরোয়ার ভোট কারচুপি এবং কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে আগামী রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন।
এসময় সদর আসনের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন বাচ্চু (আনারস), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুন ফেরদৌসসহ ১৯ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী সদর উপজেলায় ভোটগ্রহণ বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থীরা।  বেলা ২.৩০-এ ১৯ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে অনিয়মের প্রতিবাদে আগামী রোববার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন।
কুষ্টিয়ায় মিরপুর উপজেলার বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মো. আবদুল হক বেলা সাড়ে ৩টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
ভোলায় বুরহানউদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। বুরহানউদ্দিনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, তার অ্যাজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ এনে চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন মালতিয়া নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। মাদারীপুরে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী খলিলুর রহমান চান্দু চৌধুরী শিবচর উপজেলার নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার এ্যাজেন্টদের লাঠিপেটা করে ভোটকেন্দ্রগুলো থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিলমারা, নির্বাচনের নামে তামাশার আয়োজন করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ এনে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি ২০টি কেন্দ্র ভোট স্থগিত করে পুন:নির্বাচনের দাবি করেন।
যশোরের শার্শা উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী পৃথকভাবে নির্বাচন বর্জন করেছেন। একই সাথে বিএনপি আগামী কাল শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।
বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী খাইরুজ্জামান মধু ও আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী আবদুল মান্নান মিন্নুর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল হক মঞ্জুর সশস্ত্র ক্যাডাররা উপজেলাজুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা উপজেলার ১৭২ গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে যারা মধু এবং মিন্নুকে ভোট দিতে যাবে তাদের পরিণতি ভালো হবে না। এ হুমকির প্রতিফলন ঘটে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের দিন। মঞ্জুর ক্যাডাররা সকালেই ৮৯ টি কেন্দ্রের সবগুলো দখল করে নেয়। তারা ওই দুই প্রার্থীর এজেন্টদের মারধোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। পরে ব্যালট কেটে নিজেরা সিল মেরে বাকসে ঢুকায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে খাইরুজ্জামান মধু সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। একই সাথে শনিবার শার্শা উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]