এনজিও কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দুই কনস্টেবলসহ ডিবি পুলিশের এক সোর্সকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে কুড়িগ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলো-ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আতিকুজ্জামান,কুড়িগ্রাম কোর্টে কর্মরত কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও তাদের সোর্স মনু মেকার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদর ৩ জনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় অস্ত্রের মুখে অপহৃত হন এনজিও কর্মকর্তার মাইদুল ইসলামকে (৪০)। তার ছোট ভাই লিটন এ ঘটনায় চাঁদাবাজি মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই আব্দুল গফুর জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আতিকুজ্জামান, কুড়িগ্রাম কোর্টে কর্মরত কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও মনু মেকারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মিয়া জানান,‘পুলিশের শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ দায়ে দুজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওসি বলেন,এটি অপহরণ নয় স্রেফ চাঁদাবাজি।
অপহৃতের ছোট ভাই লিটন জানান,বুধবার বিকালে কলেজ পাড়া এলাকার এক ছাত্রাবাসে তার সঙ্গে মাইদুল দেখা করতে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে মাইদুলকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে সদরের মোগলবাসা এলাকায় এক বাড়িতে আটকে রাখে অপহরণকারীরা।
এরপর তারা মুক্তিপণ দাবি করে লিটনকে মোবাইলে ফোন করে তারা। রফা অনুযায়ী অপহরণকারীদের দেয়া একটি বিকাশের নম্বরে মুক্তিপণের ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন লিটন।
তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গফুর জানান,এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযানে নামে। পুলিশ অবস্থান নেয় কুড়িগ্রাম পৌর বাজারের বিকাশ এজেন্ট শহিদের দোকানে। সেখানে টাকা তুলতে আসে ডিবি পুলিশের এসআই মশিউরের মোটরসাইকেলচালক ও সোর্স মনু মেকার। তাদের অনুসরণ করে পুলিশ।
রাত ১২টায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মোড় এলাকায় মনু মেকারের দোকানে মুক্তিপণের টাকা ভাগাভাগির সময় এসআই আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হানা দেয়। এ সময় হাতেনাতে ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আতিকুজ্জামান, কুড়িগ্রাম কোর্টে কর্মরত কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও মনু মেকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তবে কুড়িগ্রাম কোর্টে কর্মরত কনস্টেবল শাহাআলম পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
এদিকে,ছাড়া পেয়ে অপহৃত মাইদুল হেঁটে বুধবার রাত ২টায় বাসায় ফেরে বলে জানান তার স্বজনরা।
[b]ঢাকা, ১ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]