[b]ঢাকা:[/b] নতুন ইংরেজী বছরের প্রথমদিনেই বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকে লাগাতার অবরোধ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পক্ষে-বিপক্ষে দু’পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
এমন পটভূমিতে পশ্চিমা কূটনীতিকদের একটা তৎপরতা চালাচ্ছে।
টানা অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এখন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার বিষয়কে সামনে আনছে।
দুদিন আগে ঢাকায় অভিযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
পুলিশই বাধায় ওই কর্মসূচি তারা করতে পারেনি, সেই কর্মসূচির কারণে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য তুলে ধরেছে। যদিও সরকার তা অস্বীকার করেছে।
এমন পটভূমিতেই গত কয়েকদিনে আবারো পশ্চিমা কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকের পর মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকের পরদিন আবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, এসব বৈঠকে বিদেশী কূটনীতিকরা সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। আর সেজন্য তারা দুপক্ষের মধ্যে সংলাপ চাইছেন।
অন্যদিকে কূটনীতিকদের এই তৎপরতা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে করতে হবে, সেটা কূটনীতিকরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সেখানে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতার প্রশ্নেই কূটনীতিকরা উদ্বিগ্ন, সেজন্য তারা বিরোধী দলের সাথে কথা বলেছেন।”
তোফায়েল আহমেদ একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সাথে কোন সংলাপের সুযোগ নেই। এই নির্বাচনের পরেই সংলাপ হলে হতেও পারে।
বিএনপি যদিও এখনো সংলাপের কথা বলছে, কিন্তু তাদের দিক থেকেও বড় শর্ত হচ্ছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা।
শমসের মবিন চৌধুরী জানিয়েছেন, এই অবস্থানই তারা কূটনীতিকদের কাছে আবারো তুলে ধরেছেন।
কূটনীতিকদের তৎপরতা নিয়ে দু’পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরছেন। তবে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে একদিকে যেমন সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে সহিংসতা বন্ধের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি