[b]ঢাকা:[/b] নতুন মন্ত্রিসভাকে 'অদ্ভুত', ‘অভিনব’ এবং ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। রোববার বিকালে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের গড়া সরকারে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের যোগদানের খবরে এমন অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন তারা।
তারা এও বলেছেন, বিশ্বের যেসব দেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে, সেসব দেশে এমন নজির নেই। এটা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এটা গণতন্ত্রের পেছনে ছুরিকাঘাত করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তারা।
রাজনৈতিক ভাষ্যকার ড. মীজানুর রহমান শেলী সাংবাদিকদের বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় উপস্থিতির নজির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে দুষ্কর।
এটাকে বলা চলে সোনার পাথরবাটি বা কাঁঠালের আমসত্ত্ব, কিংবা নভেল এক্সপেরিমেন্ট (অভিনব পরীক্ষা-নিরীক্ষা)। তিনি আরও বলেন, এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হল, তাতে করে বিরোধিতাটা সংসদের বাইরে চলে গেল। এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হল গণতন্ত্রের এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতাসীন দলের।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, এটা গণতন্ত্রের কোনো সংজ্ঞাতেই পড়ে না। সংসদীয় গণতন্ত্রে যেখানে বিরোধী দলের কথা বলা আছে, সেখানে তাদের সরকারে যোগদানের নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। এটা গণতন্ত্রের পেছনে ছুরিকাঘাত করার শামিল।
উপরন্তু এ বিষয়ে ২০০৬ সালে হাইকোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে যেখানে একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা অনৈতিক, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং সংবিধানবহির্ভূত বলা আছে, সেটারও লংঘন।
এখন বাংলাদেশে যা দেখলাম তা ঐকমত্যের সরকারও নয়, যেহেতু বিরোধী দল চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। এটাকে বরং গোঁজামিলের সরকার বলা যায়। এটা সুবিধাতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টির একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকায় শেষ পর্যন্ত এটা একটা গোঁজামিলের সরকার হয়েছে।
আর সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নয়া মন্ত্রিসভাকে ‘জগাখিচুড়ি’র মতো মনে করেন। তার মতে, এটি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দেয়া যায় না।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনে যে সংসদ হয়েছিল, সেটিকেও বৈধতা দিতে হয়েছে। সুজন সম্পাদক বলেছেন, তিনি আশা করেন এ সরকার দ্রুততার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ মিটিয়ে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করবে। তারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কারও প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন করবেন না।
বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিকও নতুন মন্ত্রিসভাকে অভিনব আখ্যায়িত করে বলেন, পৃথিবীর যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর রয়েছে, সেসব দেশে এমন দৃষ্টান্ত নেই।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বিরোধী দলের সরকারে বা মন্ত্রিসভায় যোগদানের সুযোগ নেই। সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের কথা বলা আছে। আর সংবিধানের ৫৬(২) ধারায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগদান এবং সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নয়-দশমাংসের মন্ত্রী করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে একই সঙ্গে নবম এবং দশম সংসদ বহাল রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, কোন সংসদ থেকে এসব সংসদ সদস্যকে নিয়োগদান করা হল। কেননা দুটি সংসদই বর্তমানে বহাল রয়েছে। আর এ অবস্থায় গঠিত মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ অবস্থায় যেহেতু সর্বোচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের হয়েছে, তাই এখন সবাইকে পরবর্তী অবস্থা জানতে অপেক্ষা করতেই হবে।
রোববার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। এতে জাতীয় পার্টির তিন সংসদ সদস্য যোগ করেছেন। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়েছে। এর আগে ইতিপূর্বে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদ সচিবালয় জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদকে পত্র দিয়েছেন।
শ্রেণীহীন
'অদ্ভুত জগাখিচুড়ি মন্ত্রিসভা'
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নয়া মন্ত্রিসভাকে ‘জগাখিচুড়ি’র মতো মনে করেন। তার মতে, এটি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দেয়া যায় না।





