খুলনা: নিষিদ্ধ নোটবই বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানার প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ও জেলার পুস্তক ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন।
বুধবার বিকেলে এ কারাদণ্ড ও  জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ পুস্তক
প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি খুলনা জেলা।
ধর্মঘটের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং খুলনা সিটি মেয়র,স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চেম্বার সভাপতির সঙ্গে সমিতির নেতারা পর্যায়ক্রমে মতবিনিময়
করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, বছর শুরুতে ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ তালুকদার জানান, আমরা কোনো নোটবই বিক্রি করি না। কারণ, পাঠ্যক্রম অনুযায়ী কোনো নোটবই নেই। সৃজনশীল অনুশীলনমূলক বইকে নোটবই আখ্যা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুল ইসলাম নগরীর কেডি ঘোষ রোডে বইয়ের দোকানে অভিযান চালান। এ সময় ১৯৮০ সালের নোটবই নিষিদ্ধ আইনের ৩ ধারার অপরাধে পাঠক প্রিয় লাইব্রেরির মালিক মো. মোখলেসুর রহমানকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং বুক সেন্টারের মালিক মো. ইয়াসিনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অপরদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আক্তারও অভিযান চালান।
একই অপরাধে খুলনা বুক ডিপোর কর্মচারী মিলন মাহমুদ এবং বুক সোসাইটির মালিক আব্দুল মজিদ তালুকদারকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা কেডি ঘোষ রোডে সমিতির কার্যালয়ে বৈঠক করে খুলনা মহানগরসহ জেলার ৯টি উপজেলার ৩৮৫টি দোকানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন।